Breaking News

এইচএসসি : অটোপাসের সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় অনেকে

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছাড়া রেজিস্ট্রেশন করা সকল শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্তকে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী নেতিবাচকভাবে সমালোচনা করেছেন। বরং তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড়ের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করা হবে বলে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা আসলে যৌক্তিক নয়।

তারা বলছেন, অনেকে এই দুটি স্তরে খারাপ করলেও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেটি পুষিয়ে নেয়। কিন্তু এবার সেই সুযোগ আর থাকছে না।

আবিদান হাফসা নামের এক পরীক্ষার্থী জানান, জেএসসিতে তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে অসুস্থ থাকার কারণে এসএসসির ফল ভালো করতে পারেননি। তাই এইচএসসির ফলে সে বিষয়টি পুষিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিও ছিল। তবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে তার আর সে সুযোগ থাকল না।

তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা হলে হয়তো আমি রিকভার করে আরও ভালো করতে পারতাম। আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমি ভালো রেজাল্ট করতে পারব। এজন্য অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সকলকে অটোপাসের সিদ্ধান্ত হওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না।’

মিরপুরে হাসনা বানু নামের একজন অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা ছাড়া পাস করানোর বিষয়টি আসলে ভালো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ সব বাচ্চা জেএসসি বা এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছে বিষয়টি তেমন নয়। অনেকে নিচের স্তরের পরীক্ষাগুলোর ফল খারাপ করলেও উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে ভালো ফল পেয়ে থাকে। এবার সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল।’

তাদের ভবিষ্যৎ জীবনেও এর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এই অভিভাবক। তিনি বলেন, অনেকে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করবে।

রাজধানীর একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, সরকারি এই সিদ্ধান্তে কেউ কেউ অনেক বাড়তি সুবিধা পাবে, কেউ আবার ভালো প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষা দিতে না পারায় পিছিয়ে পড়বে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে সমস্যায় পড়বে। জিপিএ পয়েন্ট কম থাকায় অনেকে ভালো মানের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করারও সুযোগ পাবে না। আপত্তি রয়েছে।

তারা আরও জানান, এসএসসি ও এইচএসসির ফল যেহেতু মেডিকেল, বুয়েট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই এক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অনেক পরীক্ষার্থীর জন্যই বাধার সৃষ্টি করতে পারে। যা নিয়ে চিন্তিত তারা।

বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র তুর্য আমান বলেন, ‘এইচএসসির পর মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের কারণে এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছি। কেননা জেএসসির ফল ভালো হলেও এসএসসিতে তেমন ভালো করতে পারিনি।’

‘এইচএসসির ফলের প্রতি পয়েন্টের সঙ্গে ২৫ আর এসএসসির প্রতি পয়েন্টের সঙ্গে ১৫ গুন করে আলাদা ২০০ নম্বর লিখিত পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যোগ করা হয়। আমার যদি পয়েন্ট কম থাকে এই ফলাফলের কারণে, তাহলে আমি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও আমার নম্বর অনেক পেছনে থাকবে। আমি হয়তো সরকারি মেডিকেলে চান্স না-ও পেতে পারি’ বলেন এই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক রায়হান আরা জানান, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে যেহেতু নিরাপত্তার কারণে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়, সে হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে একই সঙ্গে, এটি যেহেতু একটি বিশেষ পরিস্থিতি, তাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের বিষয়টি যেহেতু সব থেকে আলাদা, সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অবশ্যই চিন্তা করার সুযোগ থাকবে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের জন্য ঝামেলা হতে পারে সেই বিষয়গুলো নজরে আনার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।

‘এই ফলের কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ না পায় বা সমস্যা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।’
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। যার মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ জন। আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবার উচ্চমাধ্যমিক তথা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করেই এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তবে গড় নম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *