নর্থ সাউথে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত জিপিএ নম্বর না থাকলেও শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের ভর্তি করা হয়েছে।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কারও বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহামারি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত জুন মাসে সামার সেমিস্টারের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। করোনার কারণে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলেও ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষার ফল বিবেচনায় জিপিএ-৮ চাওয়া হয়। জিপিএ-৮ থাকলে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়।

jagonews24

পরবর্তীতে সামার সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে মোট এক হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। গত ১ জুলাই থেকে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের ক্লাসও শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সব সদস্যের জন্য পৃথক ভর্তি কোটা তৈরি করা হয়। দুই থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করে প্রতি সেমিস্টারে বিওটি সদস্য কোটায় শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এক্ষেত্রে জিপিএ ‘৮’ থাকার বিষয়টি মানা হয় না। অভিযোগ উঠেছে, এর চেয়ে কম পয়েন্ট পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও সদস্য কোটার সুবিধায় ভর্তি করা হয়েছে। যেখানে অনৈতিক অর্থের লেনদেন হয়েছে।

জানা যায়, এবারের সামার সেমিস্টারে নির্ধারিত পয়েন্টের কম জিপিএ থাকলেও নর্থ সাউথের বিওটি সদস্য এম এ হাসেমের সুপারিশে একাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। এমন একটি ভর্তির সুপারিশ এবং সুপারিশের ভিত্তিতে দেয়া ভর্তির অনুমতিপত্র জাগো নিউজের হাতে এসেছে। ওই শিক্ষার্থীকে উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুর ইসলামের নির্দেশে বিবিএ প্রোগ্রামে ভর্তি করা হয়।

jagonews24

সংশ্লিষ্টরা জানান, এম এ হাসেমের সুপারিশে একাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য উপাচার্য বরাবর আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে উপাচার্য তাদের ভর্তির নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আতিকুর ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিওটির সদস্যরা ভর্তি কোটা রেজুলেশন করে বোর্ডে পাস করিয়ে নিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের সুপারিশে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে এ ধরনের একটি অনুমোদনও নেয়া হয়। তবে এ ধরনের ভর্তির সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘কোটার মাধ্যমে বিওটির সদস্যরা ১০ জন করে ভর্তি করালেও ১০০টির মতো ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। আগের চেয়ে ভর্তি বাণিজ্য অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এ বাণিজ্য বন্ধ করায় নানাভাবে আমার ওপর হুমকি এসেছে। অনেকে আবার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভর্তি বাণিজ্যের চেষ্টা করেন।’

নির্ধারিত জিপিএ পয়েন্ট না থাকার পরও তাদের (শিক্ষার্থী) কেন ভর্তি করা হয়েছে— জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘বোর্ডের সদস্যদের নির্দেশে কোটার ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত পয়েন্ট ছাড়া ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কম-বেশি সমস্যা রয়েছে। সেসব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটি সদস্যদের জন্য ভর্তি কোটা নির্ধারণ করা হয়নি’ বলে জানিয়েছেন ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। আমরা সেসব শক্ত হাতে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। করোনার জন্য এ কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে গেলেও ভর্তি বাণিজ্যের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *