সময় বাঁচিয়ে জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পেতে ১০টি কার্যকর টিপস

সময় থাকতেই ভবিষ্যতের সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া জরুরি। কিন্তু এর দিশা পেতেই বহু সময় নষ্ট হয়ে যায়। অথচ দুনিয়াটা সম্ভাবনায় ভরপুর। তবু্ও নিজের জন্যে সঠিক গন্তব্য পেতে দিশেহারা মানুষ। এখানে বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন ১০টি কার্যকর পরামর্শ। এর দ্বারা আপনার স্বপ্ন জিইয়ে থাকবে। আপনি সহজেই সময়ের অপচয় ছাড়াই সঠিক পথ খুঁজে পাবেন।

১. ঘৃণা থেকে শুরু : সবাই যা ভালোবাসেন তাই করতে চান। অনেক কিছুই আছে যা আপনি ঘৃণা করেন। কি ঘৃণা করেন? ক্যারিয়ারে কোন পথে হাঁটার স্বপ্ন কখনোই দেখেন না? সেখান থেকেই শুরু করতে পারেন। কারণ অনেক সময়ই পছন্দের পেশায় পা দিয়ে সেখান থেকে কিছুই অর্জিত হয় না।

২. আপনি আসলে কেমন? : সোশাল মিডিয়া এবং মার্কেটিং এক্সপার্ট গ্যারি ভেনারচাক বিশ্বাস করেন যে প্রত্যেকের নিজেকে যাচাই করা উচিত। অনেক মানুষ আছেন যাদের আসলে উদ্যোক্ত হয়ে ওঠার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিম্নপদেই বড় বড় কাজ করে ফেলতে পারেন। তাই প্রতিষ্ঠাগুলোর উচিত কর্মীদের বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। সেই সঙ্গে আপনার নিজেরও নিজের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।

৩. রাতের আকাশের তারা দেখুন : রাতের ঝকঝকে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা দেখুন। অনুভব করবেন আপনি আসলে কত ক্ষুদ্র আর অপ্রয়োজনীয় এই পৃথিবীর কাছে। মাঝে মধ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা কতটাই না মনোকষ্টে থাকি। অথচ বাস্তবে এর জন্যে তেমন কিছুই ঘটে না।

৪. ৯০ দিনে পরিকল্পনা : বিজনেস গুরু এবং ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট পিটার ড্রাকার বলেন, আগামী ৯০ দিনের পরিকল্পনা যদি এখোনি করে রাখেন হবে লাভটা আপনারই হবে। লক্ষ্য স্থির করুন এই সময়ের জন্যে। সেই পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যান এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন।

৫. আলোচনা করুন : যে পথে ক্যারিয়ার গড়তে চাইছেন সেখানে অনেক মানুষ ইতিমধ্যে জড়িত রয়েছেন। এমন ১০ জন মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের অভিজ্ঞতার বয়ান শুনুন। তাদের জিজ্ঞাসা করুন, কেন তারা এ কাজ করছেন? কি কি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন? কিভাবে পরিত্রাণ মিলেছে?

৬. ভাবুন : মানুষ সব সময়ই ভাবে। কিন্তু তা এলোমেলো এবং মনোযোগের সঙ্গে তা ঘটে না। বিল গেটস প্রতিবছর দুই সপ্তাহের ছুটি কাটাতেন কেবলমাত্র ভাবার জন্যে। ভবিষ্যত এবং বর্তমান নিয়ে যত ভাববেন তত খোলাসা হবে জটিলতা।

৭. অনুতাপে দগ্ধ হোন : নিজের পথের দেখা পেতে অনুতাপের ব্যবহার করতে পারেন। জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দেখার চেষ্টা করুন। যা ভাবছেন তা যদি কখনো ধারণ করতে না পারেন তবে অনুতাপ আসবেই। সেই অনুতাপ থেকে শিক্ষা নিন।

৮. এয়ারপোর্ট টেস্ট : এটা বিশেষ এক পদ্ধতি। কাজ অনেকটা এভাবে- ভাবুন যে এই সময়টা এখন থেকে ৫ বছর পরের সময়। আপনি পুরনো এক বন্ধুর কাছে যাচ্ছেন। সেই বন্ধু জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সময় কেমন যাচ্ছে? এই ৫ বছর আপনার স্বপ্ন পূরণের সময় নির্ধারিত ছিল। তখন আপনার জবাব কি হবে? জবাব যা হবে, তাই আপনার বর্তমান লক্ষ্য।

৯. ভয় এবং সন্দেহের দিকে এগিয়ে যান : এগুলো জীবনের নেতিবাচক দিক। কিন্তু এগুলোই আবার অনেক সময় পথের দিশা দেয়। যেখানে আপনার ভয় সেদিকে এগোলে ভয় জয় করতে পারবেন। নিজের সামর্থ্য নিয়ে যেখানে সন্দেহ রয়েছে সেখানে নিজের ওপরই পরীক্ষা চালান। এসব ক্ষেত্রে ভয় এবং সন্দেহ আপনার বন্ধু হয়ে উঠবে।

১০. বাস্তবায়নে নামুন : যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করে এনেছেন এবার তা বাস্তবায়নে মাঠে নেমে পড়ুন। লক্ষ্য কখনোই অর্জিত হবে না যদি কার্যক্রম শুরু না হয়।

About Mokaddes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *