বালিশের যত্ন নিবেন কেনো ?

বিছানা নিয়ে আমরা যতটা যত্নবান, বালিশের কিন্তু সেভাবে যত্ন করা হয় না। অথচ জানেন কি অপরিষ্কার বালিশও যে হয়ে উঠতে পারে রোগ-জীবাণুর বাসা?

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে আমাদের আরামের ঠিকানা বেডরুম। তাই বেডরুমের সাজসজ্জা, পরিপাটি বিছানা নিয়ে আমাদের কতই না ভাবনা-চিন্তা। তবে বিছানা নিয়ে আমরা যতটা যত্নবান, বালিশের কিন্তু সেভাবে যত্ন করা হয় না। শুধু বালিশের কভার পরিষ্কার করেই আমরা নিশ্চিন্ত থাকি। অথচ জানেন কি অপরিষ্কার বালিশও যে হয়ে উঠতে পারে রোগ-জীবাণুর বাসা? বালিশ বা কুশনের যত্ন না নিলে কিন্তু অকালেই হয়ে পড়ে জরাজীর্ণ। তাই মাঝেমধ্যেই বালিশ বা কুশনের যত্ন নেওয়া দরকার।
যা করবেন

১. ধুলো-ময়লা, ঘামের হাত থেকে বালিশ পরিষ্কার রাখতে চেন দেওয়া কভার ব্যবহার করুন। এতে ময়লা কম হবে। ২. চেন দেওয়া কভার না থাকলে বালিশে দু’টো কাভার ব্যবহার করুন। এতে বালিশের ফ্রেব্রিকে পরিষ্কার থাকবে।

৩. বালিশের কভার এক সপ্তাহ অন্তর বদলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারের জন্য সুতির মোটা কাভার বেছে নিন।

৪. সপ্তাহে একবার বালিশগুলো ভ্যাকুয়াম করুন। সহজে ধুলো-ময়লা পরিষ্কার হবে।

৫. সারারাত শোওয়ার পর অনেক সময় ঘামে বালিশ ভিজে যায়। সেক্ষেত্রে ড্রায়ারে ৫-১০ মিনিট লো-হিট তাপমাত্রায় রেখে বালিশ শুকিয়ে নিন।

৬. তুলোর তৈরি বালিশ সপ্তাহে একদিন রোদে দিন। বালিশ নরম থাকবে, বালিশের রোঁয়া থেকে অ্যালার্জির সমস্যাও দূর হবে।

৭. তিন-চার বছর অন্তর ধুনকার ডেকে দিয়ে তুলো বদলে ফেলুন। বালিশ ভাল থাকবে।

৮. সিন্থটিক ফাইবারে তৈরি বালিশ ঘরেই পরিষ্কার করতে পারেন। এক্ষেত্রে ইষদোষ্ণ পানিতে মাইল্ড ডিটারজেন্ট দিয়ে বালিশ পরিষ্কার করে ঠাণ্ডা পানিতে ভাল করে ধুয়ে নিন।

৯. ওয়াশিং মেশিনেও এই ধরনের বালিশ পরিষ্কার করা যায়। প্রথমে বালিশ চেপে ভেতরের হাওয়া বের করে দিন। এবার ওয়াশিং মেশিনে বালিশ দিয়ে জেন্টল ওয়াশ সাইকেল বাটন প্রেস করুন। পরিষ্কার হওয়ার পর শুধু পানিতে বালিশগুলো ভাল করে ধুয়ে নিন। শেষে পানিতে ২-৩ ফোঁটা ভিনিগার মিশিয়ে তাতে বালিশগুলো একবার ডুবিয়ে তুলে নিন। বালিশের গায়ে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ওয়াশিং মেশিনের স্পিনড্রাই করে রোদে শুকনো করে নিন।

১০. বালিশের কভার ধোওয়ার পর কাপড় মেলার তারে এমনভাবে ক্লিপ আটকে দিন, যাতে ভালো করে আলো-হাওয়া চলাচল করতে পারে। এতে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

১১. বাচ্চার বালিশের কভার ধোওয়ার পর পানির মধ্যে কয়েকফোঁটা অ্যান্টিসেপটিক লিক্যুইড দিয়ে কভার তাতে ডুবিয়ে নিংড়ে মেলে দিন।

১২. একই বালিশ বছরের পর বছর ব্যবহার করবেন না। বালিশ বেশি পুরনো হয়ে গেলে ভেতরের তুলো শক্ত হয়ে যায়। এছার বালিশের শেপও খারাপ হয়ে যায়। এইরকম বালিশে শুলে কিন্তু ঘাড় ব্যথা অবধারিত।

১৩. বালিশ ব্যবহারের উপযুক্ত আছে কিনা তা বোঝার একটা সহজ উপায় হলো, বালিশ দু’পাশ থেকে ধরে ভাঁজ করে ছেড়ে দিন। যদি বালিশ আবার আগের শেপে ফিরে যায় তাহলে বুঝবেন বালিশ ঠিক আছে। নাহলে বুঝবেন নতুন বালিশ কেনার সময় হয়েছে।

১৪. বালিশ সংরক্ষণ করতে হলে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে আলমারিতে রাখবেন না। তার বদলে নরম সুতির চাদরে বালিশ মুড়ে আলমারিতে বা বক্স খাটে রাখতে পারেন।

About Mokaddes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *