Breaking News

ঘরে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পদ্ধতি জেনে নিন

আমাদের অনেকের জীবনেরই একটা লক্ষ্য থাকে একটা ভালো সরকারি চাকরি। সুরক্ষিত চাকরি, সরকারি সুযোগ সুবিধে, ভালো মাইনে, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে মানুষ সরকারি চাকরির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। সরকারি চাকরি চাওয়ার পেছনে কারন যাই থাকে না কেন পাওয়ার জন্য রয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা। আজকের আলোচনার বিষয় হলো ঘরে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার ৭ টি পদ্ধতি।

সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রথমেই প্রয়োজন সেই চাকরি ও তার পরীক্ষা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরী করা। চাকরির পরীক্ষা বিভিন্ন ধরনের হয় এবং তার যোগ্যতা ও প্রশ্ন নানান ধরনের হয়ে থাকে। তাই প্রস্তুতি শুরুর আগে আপনার যোগ্যতায় আপনি কোন কোন পরীক্ষার যোগ্য সেটা ভালো মতন দেখে নিন।

যোগ্যতা বা Qualification – বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় ক্লাস ৮ পাস থেকে শুরু করে ১০ম পাস , ১২ পাস বা স্নাতক এই ধরনের বিভিন্ন যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তবে স্নাতক যোগ্যতা থাকলে আপনি অধিকাংশ পরীক্ষার জন্য যোগ্য। প্রতিরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে কিছু শারীরিক সুস্থতার পরীক্ষাও দিতে হয়। কোন পরীক্ষায় কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন তা সেই পরীক্ষার বিজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকবে।

পরীক্ষার খোঁজ পাবো কিভাবে –বর্তমানের ইন্টারনেটের যুগে এটা খুব একটা মুশকিল কাজ না। প্রায় সমস্ত চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি সেই সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেই পাবলিশ করা হয়, সেখান থেকেই যেকোনো নতুন বিজ্ঞপ্তির খবর মিলবে। এছাড়া সরকারি চাকরির খোঁজ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে সেখান থেকেও খবর পাওয়া যায়।

বর্তমানে চাকরির খোঁজ দেওয়ার জন্য অনেক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, সেখান থেকেও যেকোনো নতুন চাকরির পরীক্ষার খবর পাওয়া যায়। তবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে সেই সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্যটি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

কিভাবে প্রস্তুতি নেবো –সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে প্রয়োজন সঠিক পথে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য। সরকারি চাকরিতে পদ সীমিত ও পরীক্ষার্থী সংখ্যা প্রচুর, তাই স্বাভাবিক ভাবেই কঠিন প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে সঠিক পদ্ধতিতে পরিশ্রম করলে সফলতা অসম্ভব নয়।

(ক) প্রথমেই দেখতে হবে কোন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাও। বিভিন্ন ধরনের চাকরির আলাদা আলাদা পরীক্ষা হয়ে থাকে।

(খ) এরপর সেই নির্দিষ্ট পরীক্ষার সিলেবাসে কি কি বিষয় রয়েছে সেগুলো নোট করে নিতে হবে।

(গ) বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে ও তার থেকে কি কি ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে তা জানার জন্য ইন্টারনেটে ওই বিষয়গুলি সম্পর্কে লেখা
দেখতে পারেন বা ভিডিওর সাহায্য নিতে পারেন। যদি মনেহয় তবে বাজার থেকে কিছু বই এনেও দেখা যেতে পারে।

(ঘ) একবার ধারণা নেওয়া হয়ে গেলে এবার প্রয়োজন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে অনুশীলন শুরু করা।

(ঙ) ইউটিউবে বিভিন্ন স্টাডি চ্যানেল গুলিতে বিনা খরচে চাকরির পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির ওপর ক্লাস করানো হয় সেগুলি ফলো করতে পারেন।

মক টেস্ট –

মনে রাখতে হবে যেকোনো বিষয়েই সাফল্য আসে কঠোর অনুশীলনের পরেই। রাতারাতি সাফল্যের আশা নিয়ে কোনো কাজ শুরু করলে তাতে বিফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে এবং সরকরি চাকরির পরীক্ষাও এর ব্যাতিক্রম নয়।

নির্দিষ্ট সংখক পদ, প্রচুর প্রতিযোগী হয়তো এই কারণেই সফলতা পাওয়া কিছুটা কঠিন মনেহয়, কিন্তু তার মানে এটা কখোনই নয় যে সফল হওয়া অসম্ভব। মনে রাখতে হবে আজকে আমরা যাদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় দেখি তারাও আমার আপনার মতন মানুষ, তাই তারা যদি পেরে থাকে তবে আপনিও পারবেন। তাই মনে আশা, নিজের প্রতি ভরসা আর সফল হওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন।যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই প্রয়োজন। আর এই কাজে সাহায্য করবে মক টেস্ট অর্থাৎ আসল পরীক্ষার আগে ঘরে বসে প্রাকটিস পরীক্ষা দেওয়া। এতে পরীক্ষায় টাইম ম্যানেজমেন্ট ও নিজের প্রস্তুতির সঠিক অনুমান পাওয়া যায় এবং নিজের ভুল গুলি খুঁজে বের করে তার সমাধান খুঁজতে সুবিধে হয়।

About Mokaddes

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *