গোসলে যে ভুলগুলো করবেন না

একজন মানুষ তার গোটা জীবনে রুটিন মেনে যে কাজগুলো করে, গোসল তার মধ্যে অন্যতম। গোসল যেহেতু শারীরিক সুস্থতার জন্য, তাই গোসলে ভুল হওয়া মানে উল্টো অসুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়া। সাধারণত গোসলে আমরা যে ভুলগুলো করে থাকি তা তুলে ধরা হলো।

শাওয়ার চালু করার সময় শাওয়ারের দিকে মুখ করে থাকাঃ শাওয়ার ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গোসল শুরু করে থাকি। কিন্তু তৎক্ষণাৎ গোসল শুরু করাটা মোটেও উচিত নয়। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, শাওয়ারের হেডের ভেতরে (যেখান দিয়ে পানি পড়ে) প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোএভিয়াম বা এম এভিয়াম ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই শাওয়ার দিকে মুখ করে শাওয়ার চালু করা উচিত নয়। শাওয়ার চালু করার কিছু সময় পর গোসল শুরু করা উচিত। এতে করে এম এভিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্ত থাকা যাবে। এম এভিয়াম সুস্থ সবল মানুষের জন্য তেমন ক্ষতিকর না হলেও বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য দুর্বলতা, শুকনো কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হওয়া সহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।

প্লাস্টিকের শাওয়ার হেড ব্যবহারঃ কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ধাতব শাওয়ার হেডের চেয়ে প্লাস্টিকের হেড বেশি জীবাণুপ্রবণ। প্লাস্টিকের শাওয়ার হেড ব্যবহার না করে ধাতব হেড ব্যবহার করা উচিত।

গরম পানি দিয়ে গোসল করাঃ পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ত্বকে লাল দাগ হওয়া, চুলকানি এবং ত্বক ছিলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করা। এছাড়া অধিক গরম পানি শরীরের আদ্রতা, চর্বি এবং আমিষের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তবে সপ্তাহে দু একবার কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে ত্বক বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অধিক সময় ধরে গোসল করাঃ কত সময় ধরে গোসল করার উচিত তার নির্দিষ্ট সীমা যদিও নেই। তবে পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ দীর্ঘ সময় ধরে গোসল না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ এতে ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা কমে গিয়ে ত্বক কুচকে যেতে পারে।

প্রতিদিন গোসল করাঃ আপনি যদি প্রতিদিন গোসল করে থাকেন, তার মানে আপনি তা মাত্রাতিরিক্ত করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডার্মাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সি. ব্র্যান্ডন মিচেল বলেন, ‘প্রতিদিন গোসলের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক আদ্রতার পরিমাণ কমে যায় এবং ত্বকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হতে পারে না।’ সপ্তাহের ৭ দিনই গোসল করতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।

শরীর পরিষ্কারের জন্য স্পঞ্জের ব্যবহারঃ গোসলের সময় আমরা শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য নানারকম স্পঞ্জ ব্যবহার করি। কিন্তু যে স্পঞ্জ দিয়ে আমরা শরীর পরিষ্কার করি সেটিই আমাদের জন্য ক্ষতিকর জীবাণুর কারণ হতে পারে। স্পঞ্জ সবসময় ভেজা পরিবেশ থাকায় তা ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত আবাস। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞগণ স্পঞ্জ ব্যবহারের কিছু নিয়ম অবশ্য বাতলে দিয়েছেন-

১. প্রতিবার স্পঞ্জ ব্যবহারের পর তা শুকিয়ে ফেলতে হবে।
২. স্পঞ্জ মুখে এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে ব্যবহার না করা। কারণ শরীরের এই অঙ্গগুলোতে সহজে জীবাণু আক্রান্ত হয়।
৩. প্রতি সপ্তাহে স্পঞ্জ একবার জীবাণুমুক্ত করার দ্রবণে ভিজিয়ে নিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রাকৃতিক স্পঞ্জ (ধুন্দল শুকিয়ে যেটি তৈরি করা হয়) হলে তিন সপ্তাহ পর আর প্লাস্টিকের স্পঞ্জ হলে এক মাস পর পাল্টে নতুন স্পঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিদিন চুল ধোয়াঃ ত্বকের মতো চুলেও প্রাকৃতিক উপাদান বিদ্যমান। প্রতিদিন চুল ধোয়ার ফলে চুলে থাকা প্রাকৃতিক তেল কমে যাওয়ায় চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন চুল ধোয়া বিশেষ করে ক্ষতিকর হতে পারে- যদি আপনার চুল যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে কিংবা চুলে কালার ব্যবহার করে থাকেন। আপনার চুল যদি তৈলাক্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাহলে চুল থেকে অতিরিক্ত তেল শোষণে ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *