দিল্লিকে ৯ উইকেটে পর্যুদস্ত করে প্লে-অফের লড়াই জমিয়ে দিল মুম্বই

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে আগেই। কিন্তু বাকি তিনটি স্থানের জন্য লড়াইয়ে রয়েছে পাঁচটি দল। এমতাবস্থায় শনিবাসরীয় ডাবল-হেডারের প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গত তিন ম্যাচে হারের পর এই ম্যাচে জয়ের সরণিতে ফিরলে প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলত শ্রেয়স আইয়ারের দিল্লিও। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে মুম্বইকে বিন্দুমাত্র লড়াই ছুঁড়ে দিতে পারল না দিল্লি ক্যাপিটালস। বলা যায় কায়রন পোলার্ডের দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে প্লে-অফের অঙ্ক জটিল করে ফেলল তারা।

অন্যদিকে দিল্লিকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের প্রথম স্থান কেবল নিশ্চিত করা নয় একইসঙ্গে বাকি তিনটি স্থানের জন্য দলগুলোর যে র‍্যাট-রেস সেটাও জমিয়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। অর্থাৎ পঞ্জাব, রাজস্থানের সঙ্গে প্লে-অফের আশা বেঁচে থাকল নাইট রাইডার্সেরও। ডাবলে হেডারে শনিবারের দ্বিতীয় ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেই ম্যাচে সানরাইজার্স জয় তুল নিলে প্লে-অফের দরজা খোলা থাকবে তাদের জন্যেও। সবমিলিয়ে লাস্ট-ল্যাপে দারুণ জমে উঠেছে ত্রয়োদোশ আইপিএলে প্লে-অফের লড়াই।

এদিন টস জিতে প্রথমে দিল্লি ক্যাপিটালস্কে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু মুম্বই বুমরাহ-বোল্টদের দাপুটে পেসে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১০ রানের বেশি তুলতে পারেনি দিল্লি। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৪.২ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় মুম্বই। ওপেনার কুইন্টন ডি’কক ২৬ রানে আউট হলেও আরেক ওপেনার নীতিশ রানা ৭২ রানে অপরাজিত থেকে সহজেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। ১১ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন গত ম্যাচের নায়ক সূর্যকুমার যাদব। রানার মারকাটারি ইনিংস এদিন সাজানো ছিল ৮টি চার এবং ৩টি ছয়ে।

এর আগে এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের প্রথম ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন শিখর ধাওয়ান। রানের খাতা না খুলেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাঁকে। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভার অর্থাৎ ম্যাচের তৃতীয় ওভারে কিউয়ি পেসারের শিকার পৃথ্বী শ। ১৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং ঋষভ পন্ত জুটি দিল্লির প্রাথমিক বিপর্যয় রোখার খানিকটা চেষ্টা করেছিলেন বটে। কিন্তু ২৯ বল খেলে ২৫ রান করা শ্রেয়স আইয়ার ক্রিজে থিতু হয়েও চাহারের ডেলিভারিতে ঠকে যান। তৃতীয় উইকেটে যোগ হয় মূল্যবান ৩৫ রান।

কিন্তু শ্রেয়স আউট হতেই আর রোখা যায়নি দিল্লির ব্যাটিং লাইন-আপের পতন। এক এক করে ফেরেন মার্কাস স্টোইনিস, ঋষভ পন্ত, হর্ষল প্যাটেল, শিমরন হেটমেয়াররা। ৭৮ রানে ৭ উইকেট হারানো দিল্লি তিন অঙ্কের রান ছুঁতে পারবে কীনা, তা নিয়ে একসময় প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেষদিকে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ৯ বলে ১২ রান এবং কাগিসো রাবাদার ৭ বলে ১২ রানের কোনক্রমে ১০০ রানের গন্ডি পেরোয় দিল্লি। শেষ অবধি নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট না হারালেও ১১০ রানের বেশি তুলতে পারেনি দিল্লি ব্রিগেড।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *