ফুসফুস কেন নষ্ট হয়, কী করবেন?

কেন নষ্ট হয় ফুসফুস?
ধূমপান

সিগারেটের ক্ষতিকর ধোঁয়ায় বিষাক্ত পদার্থ ফুসফসের প্রদাহকে বাড়ায়, বায়ুথলির স্থিতিস্থাপকতা এবং ফুসফুসের গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফুসফুস নষ্ট করে। একটি সিগারেটের শলাকায় প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অ্যালভিওলাই নষ্ট হয়ে যায় এবং কালচে বর্ণ ধারণ করে। এই অ্যালভিওলাই হচ্ছে মানবদেহের রক্তপ্রবাহে অক্সিজের স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। করোনা ভাইরাসের কারণে অতিরিক্ত নষ্ট কোষ জমে গিয়েও কিন্তু ওই অ্যালভিওলাইন নষ্ট হয় (তবে তা দ্রুত ঘটে)। অন্যদিকে ফুসফুসের অন্তপ্রাচীরে চুলের মতো সিলিয়া থাকে যার ফলে ফুসফুসের ভেতরে কোনও ক্ষতিকর কণা থাকতে পারে না। ধূমপানের ফলে সিলিয়াগুলো অবশ হয়ে পড়ে এবং ধূলিকণা ফুসফুসে জমা হওয়ার সুযোগ পায়। ধূমপায়ী ব্যক্তির ফুসফুসে পানিও জমতে পারে থাকে। এক্সরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক তা শনাক্ত করতে পারেন।

করো নাভাইরাস

করো নাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে আমাদের ফুসফুস অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাইরাস দেহে প্রবেশের ফলে আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন খুব সক্রিয় হয়, তখন প্রচুর জলীয় পদার্থ ফুসফুসে বাতাস চলাচলের থলিগুলো অর্থাৎ অ্যালভিওলিগুলোকে ভর্তি করে ফেলে। তখন নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। করোনায় আক্রান্তের ফলে ফুসফুসের নরম অংশগুলো নষ্ট হয়ে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয় যাকে পালমোনারি ফাইব্রোসিস বলে। এর ফলে ফুসফুসের টিস্যুগুলো মোটা হয়ে যায় এবং ফুসফুসের বায়ুথলিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এতেও নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি ভবিষ্যতেও ফুসফুসের জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

আরও কারণ

১। পরিবেশ দূষণ ফুসফুস নষ্ট হওয়ার কারণ। চারপাশের ধুলা, যানবাহনের কালো-ধোঁয়া ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া গৃহস্থালীর বিভিন্ন উপাদান দ্বারাও ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে।

২। কিছু কিছু মেডিক্যাল কন্ডিশনও ফুসফুস নষ্ট করে। যেমন: রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, পালমোনারি ভাস্কুলাইটিস, পলিমিওসাইটিস/ডার্মাটোমাওসাইটিস ইত্যাদি।

৩। কিছু কিছু রোগের চিকিৎসার কারণেও ফুসফুসের বারোটা বাজতে পারে। যেমন: কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি ইত্যাদি।

৪। অ্যালকোহল সেবনে ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

উপায়?

১। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামগুলো করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি নিন। কারণ জরিপ করলে দেখা যাবে আমাদের অনেকেই ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাসই শিখিনি।

২। ফুসফুস ভালো রাখার জন্য জন্য ভিটামিন-এ, সি, ই (বিটাক্যারোটিন ও ক্যারোটিনয়েডস), ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সোডিয়াম, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৩। নিয়মিত ইয়োগা করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে।

৪। ধূমপান ছাড়তে হবে, এর বিকল্প নেই। ধূমপায়ীর আশপাশেও যাওয়া যাবে না।

৫। অ্যালকোহলকেও না বলুন।

৬। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। এতে করোনা নয় শুধু, ক্ষতিকর কণাও ঢুকবে না ভেতরে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *