Breaking News

এখনও আলুর হিসাব পায়নি প্রতিযোগিতা কমিশন

এখনও দেশের ৬৪ জেলা থেকে হিমাগারে রাখা আলুর হিসাব পায়নি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এ হিসাব না পেলে অস্থির আলুর বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কোনও সুপারিশও করতে পারছে না কমিশন। হিমাগারগুলোয় কী পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে তা জানতে প্রতিযোগিতা কমিশন থেকে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক বা ডিসি বরাবর চিঠি পাঠালেও মাত্র ১২টি জেলা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ৫২ জেলা থেকেই আলু সংক্রান্ত কোনও তথ্য জানানো হয়নি। প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণহীন আলুর বাজারে ভূমিকা রাখতে মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। একই সঙ্গে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে কীভাবে আনা যায়, সেক্ষেত্রে সরকারের করণীয় নির্ধারণেও পরামর্শ দিতে চেয়েছে কমিশন। এজন্য দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসক বরাবর জেলায় অবস্থিত হিমাগারগুলোয় কী পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে এমন তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠালেও মাত্র ১২টি জেলা থেকে প্রতিযোগিতা কমিশনকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। বাকি ৫২টি জেলাই এখনও পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা মুন্সিগঞ্জের হিমাগারগুলোয় কী পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে সে তথ্য ইতোমধ্যে কমিশনকে পাঠিয়েছি। মোট কথা কমিশন থেকে যেসব তথ্য জানতে চেয়েছে তা জানিয়েছি। এর বাইরেও আমরা সরকার নির্ধারিত আলুর দর যেটি নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্যও মাঠে কাজ করছি। এজন্য আমরা হিমাগারগুলোর গেট থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কী দরে আলু বিক্রি হচ্ছে তা মনিটর করছি। প্রয়োজন হলে অভিযানও করছি। সরকার নির্ধারিত দর বাস্তবায়নের জন্য হিমাগারগুলোর মালিক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছি।   তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জে এ বছর ১৩ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন করা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় বেশি।

এদিকে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানিয়েছেন, কমিশনের চিঠি আমরা পেয়েছি। কিন্তু গোপালগঞ্জ জেলার কোথাও কোনও হিমাগার নেই বিধায় আমাদের কাছে আলু সংক্রান্ত যে তথ্য কমিশন জানতে চেয়েছে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য পাঠানোর মতো নেই। এ কারণে আমরা কিছুই জানাইনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আমরা দেশের ৬৪ জেলা থেকেই হিমাগারগুলোয় কী পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে তা জানতে চেয়েছি। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আমরা বেশিরভাগ জেলা থেকে কোনও তথ্যই পাইনি। আমরা মাত্র ১২টি জেলা থেকে প্রতিবেদন পেয়েছি। সব জেলা থেকে তথ্য না পেলে তো কোনও সুপারিশও করতে পারছি না। তিনি বলেন, আমরা কমিশন থেকে বীজ আলু ও খাবার আলু উভয় প্রকার আলুর হিসাবই চেয়েছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের যেসব জেলায় হিমাগার রয়েছে তারাই সেখানকার হিসাব দেবে। আর যেসব জেলায় হিমাগার নেই সেসব জেলা প্রশাসকরাও জানাবেন যে জেলায় কোনও হিমাগার নেই। এসব তথ্য পেলেই আমরা আলুর অস্থির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারকে সুপারিশ করতে পারবো। চাইলে কমিশনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান তিনি।  

উল্লেখ্য, কমিশনের আইন পরিপন্থী মজুত বা কার্টেল করে থাকলে ব্যবস্থা নিতেই ডিসিদের কাছে এই চিঠি পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ অনুযায়ী, কার্টেল অর্থ ‘কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্ন চুক্তির মাধ্যমে কোনও পণ্য বা সেবার বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য পণ্যের উৎপাদন, পরিবেশন, বিক্রয়, মূল্য বা লেনদেন অথবা কোনও প্রকার সেবা সীমিতকরণ, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা বা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ করা’।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলাগুলোয় অবস্থিত হিমাগারগুলোয় সংরক্ষিত আলুর পরিমাণ জানতে পারলে ‘আমরা দেখবো যে, মজুতের উদ্দেশ্যটা কী। সেই মজুত আমাদের আইন বিরোধী কিনা, সেটাও আমরা দেখবো।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রতিকেজি আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল কৃষি বিপণন অধিদফতর। এই দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত এই দামের বিষয়ে আপত্তি জানান ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তারা আলু বিক্রি বন্ধ করে দেন। গত ২০ অক্টোবরের সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতিকেজি ২৭ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদফতর জানিয়েছে, দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ ৯ হাজার টন। বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩১ লাখ ৯১ হাজার টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিছু পরিমাণ আলু রফতানি হলেও ঘাটতির সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে জানিয়েছে অধিদফতর সূত্র।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *