প্রোটিনে ভরপুর ছোলার ডাল

প্রোটিনে ভরপুর ছোলার ডাল। এই ডাল মলিবেডনাম এবং ম্যাংগানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে। সেই সঙ্গে আছে আমিষ ট্রিপটফান কপার ফসফরাস এবং আয়রন।

আস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় যে অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খায় তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভালো পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এ ছাড়া ছোলা বয়ঃসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

এক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলার ডাল খায় তাদের পায়ের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল অনেকখানি বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তনালির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।

ছোলার ডালের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন এ ও সি। এবার জেনে নেওয়া যাক ছোলার ডাল আমাদের কীভাবে উপকার করে।

ওজন কমাতে

সবারই এখন প্রাথমিক লক্ষ্য চর্বি ঝরানো। তার জন্য যত কষ্টই করতে হোক না কেন তাতেও রাজি। এছাড়াও ওজন বাড়লে শরীরে আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। আর ওজন ঝরাতে হলে শুধু খাওয়া বন্ধ করে দিলেই চলবে না। তার জন্য প্রয়োজন ঠিকমতো ডায়েটেরও। ছোলার ডাল সামান্য খেলেই পেট ভরে যায়। তাই ডালিয়া বানাতে পারেন ছোলার ডাল দিয়ে। কিংবা ছোলার ডাল দিয়ে রুটিও খেতে পারেন। আর ছোলার ডালের মধ্যে ফাইবার থাকায় পেটও পরিষ্কার হয়।

হার্ট ভালো থাকে

ছোলার ডালে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা হার্টকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও ধমনীর মধ্যে দিয়ে যাতে রক্তচলাচল ভালো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখে। ছোলার ডালে থাকে ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম। যা রক্তকে জমাট বাঁধা থেকে রক্ষা করে। হার্ট অ্যাটার্কের আশঙ্কা কমে।

কোলেস্টরল কম করে

যাঁদের কোলেস্টেরল রয়েছে তাঁরা মুসুর ডালের পরিবর্তে ছোলার ডাল খেতে পারেন। ছোলার ডাল শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন দূর করে দেয়। ফলে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়।

ডায়াবেটিসের জন্য ভালো

ছোলার ডাল যে-কোনও ধরনের কার্বোহাইড্রেট হজম করায় ধীরে-ধীরে, ফলে চোখের খিদে হয় না। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যদি আধ কাপ করে ছোলা সেদ্ধ বা ভেজানো কাঁচা ছোলা খাওয়া যায় তা হলে এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরের বাড়তি ইনসুলিনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আয়রনের ঘাটতি পূরণ

ছোলার ডালের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। যা আমাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ফুসফুসেও কোনও সংক্রমণে বাধা দেয়। আর কাজ করার শক্তি জোগায় শরীরকে। যে কারণে গর্ভবতী মহিলাদের ছোলার ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

ছোলার ডালের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর যেহেতু জিরে আদা দিয়েই ছোলার ডাল রান্না করা হয় তাই এই ডাল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে শরীরে কখনই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি হয় না।

রূপচর্চাতেও ভূমিকা রয়েছে ছোলার ডালের। টকদই, হলুদ বাটা আর ছোলার ডাল বেটে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারলে বেশ ভালো ফল পাবেন। প্রতিদিন গোসলের আগে লাগাতে পারলে তা প্রাকৃতিক স্ক্রাবারের কাজ করবে। প্যাক লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে দিন।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *