কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে ফেসবুকে মাতামাতি-ট্রল

করোনাকালে পর্যটকদের জন্য সাজেক উন্মুক্ত হওয়ার পরই ভিড় বাড়তে থাকে সেখানে। তখন ফেসবুকে ‘সাজেকের ছবি আপলোড দেয়া’ নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হওয়ার পরই ট্রেন্ডের মোড ঘুরে যায়! এখন দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ছবি ও লেখার মাধ্যমে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য নিয়ে ট্রল করছেন।
তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য দেখা যাওয়ার পরই ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। তবে কেউ কেউ না যেতে পারলেও কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নিচ্ছেন! অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে তুলে আনছেন ঢাকার শহরে! শুধু কি তাই? ফটোশপের কল্যাণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কাপ্তাই লেক কিংবা নিঝুম দ্বীপ—সব জায়গা থেকেই যেন পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ দেখা যাচ্ছে!

নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপের সঙ্গে কাঞ্চজঙ্ঘা মিশিয়ে সালমান নামের একজন লিখেছেন, ‘গোধূলি লগ্নে কাঞ্চনজঙ্ঘা। যারা আমার মত গরীব তারা নিঝুম দ্বীপ এসেও পর্বত শৃঙ্গটি দেখে নিতে পারবেন।’ তানজিম মুনিয়া নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘সাজেক, গুলিয়াখালির দিন শেষ, কাঞ্চনজঙ্ঘার বাংলাদেশ। আমার বাসার বারান্দা থেকেও তো দেখা যাচ্ছে।’

এরইমধ্যে যারা সেখানে কাঞ্চনজঙ্ঘার বিশালতা উপভোগ করেছেন, তাদের অনেকেই পুরনো স্মৃতি আওড়াচ্ছেন। রাকিব কিশোর নামে আরেকজন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা আমার কাছে আর দশটা সাদা পাহাড়ের মতোই, আলাদা কিছু না। কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘা যে একটা আবেগের নাম সেটা বুঝেছিলাম প্রথম যেবার সান্দাকফু যাই; হোটেলের দুইটা ভারী লেপ গায়ে জড়িয়ে তীব্র বাতাসের মধ্যে ভোর সাড়ে চারটায় কাঁপতে কাঁপতে বাইরে এসে দেখি ফ্রান্সের এক লোক গায়ে সামান্য একটা জ্যাকেট জড়িয়েই একটানা তাকিয়ে আছে উত্তরের দিকে! তার কাছে গিয়ে আমিও উত্তরের দিকে তাকালাম, একটা কালো অটল পাহাড়ের সারি ওই দূরে। সেখান থেকে চোখ না সরিয়েই লোকটা জানালো এটা তার ৫১তমবার সান্দাকফু আসা!’

আনিকা তাবাসসুম রিশা নামের এক তরুণী ‘ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ’-এ লিখেছেন, ‘যারা কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে ট্রল করছেন, তারা কি জেনে ট্রল করছেন? তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব খুব কম। তাই শীতের শুরুতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়। সৌভাগ্যক্রমে এবার বেশিই সুন্দরভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই চতুর্দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে পোস্ট করছে, প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। এখন আমার কথা হলো, আপনি যদি ঢাকার ছাদে উঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চান তাইলেতো হবে না। ছাদে উঠলাম আকাশে তাকাইলাম আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়ে গেল! আর দেখা না পেয়ে ট্রল করা শুরু করলাম। বাহ!’

কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শীতের আগমনী বার্তার পূর্বে আকাশে ভেসে ওঠে হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপালের দূরত্ব ৬১ কিলোমিটার, ভূটানের দূরত্ব ৬৪ কিলোমিটার, চীনের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ৫৮ এবং শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের দূরত্ব ৭৫ ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বরফ আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও রোববার একেবারেই অস্পষ্ট ছিল। তবে তা নির্ভর করে আবহাওয়া ও ভাগ্যের ওপর! তারপরও দেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চাইলে এখনই সেই কাঙ্খিত সময়।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *