জাম্বুরা বীজ নির্যাস: প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক…

ব্যাপক মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই। প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করতে পারে জাম্বুরার বীজের নির্যাস যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এন্টিবায়োটিকের জীবাণু দমনে যতগুলো গুণ থাকা দরকার তার সব কয়টি রয়েছে জাম্বুরা বীজের নির্যাসে। অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাথরুম এবং প্রসাধন সামগ্রীতেঃজীবাণু দমনে কার্যকরী জাম্বুরা বীজের নির্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে টয়লেট, সিঙ্ক, বাথটাব পরিষ্কার করতে। জীবাণু দমনে নিত্যদিন টুথব্রাশেও ব্যবহার করা যায় নির্যাস। ডিওডোরেন্ট হিসেবেও ব্যবহার করা যায় যেহেতু ব্যাক্টেরিয়া নিধন করতে কার্যকরী এটা।

গোসলের সময়ঃক্লোরিন এবং জাম্বুরা বীজ নির্যাস একত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে পানিকে ব্যাক্টেরিয়া, ফাংগাস এবং শেওলামুক্ত করার কাজে। যদি পানি দেখতে পরিষ্কার ও খুব জরুরি না হয় সেক্ষেত্রে ক্লোরিন ব্যবহার না করলেও চলে। দক্ষিণ আমেরিকায় সাতার এবং গোসলখানায় খুব সাধারণভাবেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে এটাকে।

লন্ড্রিঃহাসপাতালের লন্ড্রি যেখানে জীবাণু দমন কার্যকর নিশ্চিত করতে হয় সেখানে ব্যবহার করা খুবই কার্যকরী হবে জাম্বুরা বীজের নির্যাসের। লন্ড্রি অপারেশন ম্যানেজার ফ্লোরিডা হাসপাতলের জেরি স্কিডমোর মনে করেন হাসপাতালে লন্ড্রিতে খুবই কার্যকরী এই ‍উপাদানটি। ১০ থেকে ১৫ ফোটা নির্যাস প্রতি গ্যালন পানিকে জীবানুমুক্ত করতে যথেষ্ট।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেঃ বর্তমানে আমেরিকার বেশ কিছু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে জাম্বুরা বীজের নির্যাস। হাসপাতালে রোগীর ভর্তি হওয়ার পর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে এই নির্যাস। হাসপাতালকর্মী, রোগী, রোগীকে দেখতে আসা লোকজন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল নির্ভর না হয়ে এটা ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারেন।যদিও এখন জাম্বুরা বীজ নির্যাসের গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ নেই তারপরও আশা করা যায় ভবিষ্যতে এর এন্টিমাইক্রোবিয়াল এবং জার্মিসিডিয়াল গুরুত্ব একদিন প্রকাশ পাবে।

জাম্বুরা নির্যাসের একজন গবেষণাকারী এবং সহকারী প্রফেসর ড. রজার ওয়াইট এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘যখন কেউ এর কার্যকারীতা লক্ষ্য করবে তখন দেখা যাবে ক্ষতিকারক উপাদানের কম উপস্থিতি খুবই চমকপ্রদ এখানে। অল্প পরিমাণে এর ব্যবহার বেশ ‍উপকারী হতে পারে।”
জাম্বুরা বীজ নির্যাসকে ব্যবহার করতে হবে সতর্কতার সাথে। চোখে এবং চামড়াতে লাগানো যাবে না। এটাকে বিবেচনা করা হয় কম বিষাক্ত এবং সংবেদনশীল।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *