সুস্থ থাকতে চাইলে যে ৩টি খাবার বাদ দিবেন

তিনটি সাদা রঙের খাবার, যা আমাদের খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন থাকে অথচ মোটেই উপকারী নয়। কোন তিনটি খাবার তা জানতে চান? ময়দা, চিনি এবং সাদা ভাত। এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় স্টার্চ এবং কার্বোহাইড্রেট, যে কারণে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স-এ এদের স্থান একেবারে উপরের দিকে। আর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স উপরের দিকে থাকা খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা তো থাকেই, সেই সঙ্গে আরও হাজার রকমের রোগ ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। তাই সময় থাকতে থাকতে সাবধান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ময়দা এবং চিনির মতো রিফাইন্ড খাবারের কোনো পুষ্টিগুণই নেই। উল্টো বেশি মাত্রায় চিনি আর ময়দা খেলে শরীরে ক্যালরির মাত্রা বাড়তে শুরু করে, তাতে করে ওজন বাড়ার আশঙ্কা বাড়ে! সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই ময়দা এবং চিনি রয়েছে এমন খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভাতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরের উপকারে লাগে ঠিকই। কিন্তু একথাও অস্বীকার করলে চলবে না যে দেহে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আট থেকে আশি, সবারই পরিমিত হারে ভাত খাওয়া উচিত।

এর পরিবর্তে কী খাবেন: চিনির পরিবর্তে মধু, গুড়, ব্রাউন সুগার, নয়তো ম্যাপল সিরাপের ব্যবহার শুরু করতে পারেন। এদিকে সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস খাওয়া চলতে পারে। তাতে করে কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি তো মিটবেই, সেই সঙ্গে আরও অনেক পুষ্টিকর উপাদানের চাহিদাও পূরণ হবে। অন্যদিকে ময়দার তৈরি খাবার, যেমন- সাদা পাউরুটি, পাস্তা প্রভৃতি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। ময়দা দিয়ে তৈরি পরোটা বা লুচি খাওয়াও চলবে না।

চিনির মাত্রা কমানোর পাশাপাশি রোজের ডায়েট থেকে সাদা ভাত এবং ময়দাকে বাদ দিতে পারলে ওজন তো নিয়ন্ত্রণে থাকবেই, সেইসঙ্গে হার্টের রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হাই ব্লাড প্রেসারের মতো রোগও দূরে থাকতে বাধ্য হবে। শুধু তাই নয়, হাই কোলেস্টেরল, ক্রনিক ইনফ্লামেশন এবং ফ্যাটি লিভারের মতো রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। তাছাড়া বেশি মাত্রায় রিফাইন্ড সুগার খেলে দাঁতে পোকা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই তো ‘নো-হোয়াইট’ ডায়েটের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

বেশ কিছু সাদা খাবার আবার শরীরের পক্ষে বেশ উপকারী। সুস্থ থাকতে চিনি, ময়দা এবং সাদা ভাতের মতো খাবারকে যেমন বাদ দিতে হবে, তেমনই পনির, দুধ এবং দইয়ের মতো সাদা খাবার বেশি মাত্রায় খেতে ভুলবেন না। কারণ, এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় উপকারী ভিটামিন এবং মিনারেল, যা শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *