জীবনের পাঁচটি ক্ষেত্রে মুখ না খোলাই ভাল

মাঝে মাঝে কথা বলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এই সময়ের বেশ কিছু লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ। এতে যে কেবল শক্তিক্ষয় রোধ হয়, তা নয়। আত্মস্থ থাকার অবকাশও মেলে। কিন্তু সম্প্রতি কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ জেন ফ্লোরেস্কা জানাচ্ছেন, নীরবতা এক ধরনের কমিউনিকেশন। জীবনের কয়েকটি ক্ষেত্রে যদি আমরা মুখ না খুলি, তা হলে বিশেষ কিছু ঘটতে পারে, যা আমাদের পক্ষে তো বটেই আমাদের পরিপার্শ্বের পক্ষেও লাভজনক।

এখানে ফ্লোরেস্কা-বর্ণিত তালিকা থেকে ৫টি উল্লিখিত হল:-

১. কারও মৃত্যুর পরে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নীরবতা পালন করুন। অবান্তর সান্ত্বনা দেওয়ার চাইতে নীরবতাই এখানে বাঞ্চনীয় ।

২. নিজেকে যখন বিভ্রান্ত বলে মনে করছেন, তখন চুপ করে থাকুন। এই সময়ে কথা বলতে গেলে বিড়ম্বনা বাড়বে। জটিলতা আপনাকে ঘিরে ফেলবে।

৩. কোনও আলোচনা যদি মনোগ্রাহী বলে বোধ হয়, তবে সেখানে নীরব হোন। চুপ করে শুনুন। এতে উপকার আপনারই।

৪. কাজের সময়ে যতটা পারেন কম কথা বলুন। একে মনঃসংযোগ বাড়বে। আর দিনের শেষে ক্লান্তিবোধও কম হবে।

৫. বাজে তর্ক, উড়ো ঝগড়া ইত্যাদির সময়ে মুখে কুলুপ আঁটুন। কেন, তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না।

জীবনে পাঁচটি ক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি নিন

ব্যবসায়ীদের মাঝে অনেকেই ঝুঁকি নিতে চান না। এছাড়া অনেক কাজ আছে যা একজন মানুষ সারাজীবন স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে করতে পারেন না। জীবনের সত্যিকার অনুভূতি আস্বাদন করার জন্য এমন কিছু কাজ করা যেতেই পারে, যা সাধারণভাবে আপনার করার কথা নয়। এসব কাজের কয়েকটি দেওয়া হলো এ লেখায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

১. এমন একজন লোককে প্রতিষ্ঠানে নিন, যাকে নেওয়ার কথা নয়
ব্যবসাক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট ছকে চলেন। কিন্তু এ ছক ভেঙেও অনেক সময় ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। যেমন আপনার ব্যবসায় একটি অত্যন্ত অভিজ্ঞ পদের জন্য মানুষ হিসেবে তরুণ অথচ সম্ভাবনাময় একজনকে নিয়োগ করলেন। এটি অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং হলেও কখনো কখনো তা সত্যিই ফলাফল প্রকাশ করে।

২. ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ
এমন অনেক ভুল রয়েছে, যা আমরা কেউ স্বীকার করতে চাই না। কিন্তু এমন একটি ভুলের জন্য আপনি দুঃখ প্রকাশ করে নিন। পাশাপাশি এ ভুল যেন আর না হয় সেজন্য ব্যবস্থা করুন। এটি আপনি যতটা খারাপ হবে বলে মনে করছেন, মোটেও তা হবে না। এমনকি এ দুঃখ প্রকাশ আপনার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনাও করতে পারে।

৩. বড় একটি ভয়ের মুখোমুখি হন
জীবনে কোনো বিষয়কে কি আপনি খুবই ভয় পান? বাবার সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনাতে ভয়? রোলার কোস্টারে উঠতে ভয়? কোথাও যেতে ভয়? একবার সাহস করে সেই ভয়টি কাটিয়ে নিন। দেখুন এটি অতোটা ভয়ের নয়।

৪. স্বপ্নের একটি কাজ করুন, যা অন্যদের চোখে অস্বাভাবিক
কোনো একটি কাজ করতে আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখেন? কাজটি করলে অন্যরা কে কি মনে করবে সেজন্য চিন্তিত? এবার সময় হয়েছে কাজটি করে ফেলার। অন্যরা আপনার এ কাজটি পাগলামি বা অন্য কোনো কিছু মনে করছে কি না, তাতে মনোযোগ দেওয়ার দরকার নেই।

৫. সীমানা লঙ্ঘন করুন
আপনার নিজের কি আছে, কি নেই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে দিন। বিশ্বে বহু মানুষ রয়েছে, যারা আপনার চেয়ে কম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। এবার নতুন কিছু করুন। হোক না তা সীমানা লঙ্ঘন। এমন কোনো মানুষকে সহায়তা করুন, যা আপনার করার কথা নয়। সে মানুষটির জীবন একেবারে পাল্টে দিন।

জীবনে এই পাঁচটি বিষয়ে কখনও আফসোস করবেন না!

আপনার চেহারা: মনে রাখবেন, আপনি কেমন দেখতে, তাতে আপনার কোনও হাত নেই। নিজেকে আপনি নিজে গড়েননি। কাজেই আপনি বেঁটে না মোটা, রোগা না লম্বা, ফর্সা না কালো— সে নিয়ে বিন্দুমাত্র মন খারাপ করবেন না। আমি কেন আর একটু ফর্সা, লম্বা বা রোগা হলাম না— এই ভেবে আফসোস করার কোনও মানে হয় না।

নিজেকে নিয়ে নেয়া আপনার সিদ্ধান্ত: নিজের জীবন সম্পর্কে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা জীবনকে সহজতর করার লক্ষ্যেই নিয়েছেন। কাজেই সেই নিয়ে লজ্জিত বা অনুশোচিত বোধ করারও কিছু নেই।

নিজের অনুভূতিকে যথাযথ অভিব্যক্ত করার ক্ষেত্রে: নিজের অনুভূতিকে যত চেপে রাখবেন, তত মানসিক কষ্ট বাড়বে। তার থেকে নিজেকে প্রকাশ করুন। যেমন ভাবে প্রয়োজন নিজেকে প্রকাশ করার, সেই ভাবেই করুন। এর জন্য কুণ্ঠিত হবেন না।

নিজের মতকে যথাযথ অভিব্যক্ত করার ক্ষেত্রে: যেটা ভালো লাগছে না, তাকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলুন। ভালো লাগলে তাও স্পষ্টভাবে বলুন। নিজের মতকে কখনও দমন করবেন না। নিজের মত প্রকাশের জন্য আফসোস করবেন না।

নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরার ক্ষেত্রে: আপনি যেমন, তার চেয়ে অন্যরকম, অন্য কোনও মানুষ হওয়ার অভিনয় করবেন না। তাতে শুধু অন্যদের ঠকানো হয় না, নিজেকেও ঠকানো হয়। তার চেয়ে নিজের ‘ট্রু সেলফ’-কে তুলে ধরুন। তার জন্য কোনও রকম আফসোস যেন আপনাকে গ্রাস না করে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *