এক কোটি টাকা জানালা দিয়ে ফেলে দিলেন তারা

নগরীর ১টি বাসায় রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা ওই রোহিঙ্গা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে রমরমা ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শওকত ইসলাম (৩২) ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২৮)। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক নোমান মাহমুদ তাদের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
র‌্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আলী আশরাফ তুষার বলেন, শওকত ১ জন শীর্ষ মাদক চোরাচালানি। সে মিয়ানমার ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্য। তার স্ত্রী টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখে। আমরা প্রায় ১ বছর ধরে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছিলাম। কিন্তু তারা ৩-৪ মাস পরপর বাসা পরিবর্তন করে। সর্বশেষ চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৭৯ নম্বর সড়কে ১টি ভবনে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালাই। অভিযানের সময় শওকত ও তার স্ত্রী ইয়াবা ব্যবসার টাকার বান্ডিল জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি। সব মিলিয়ে ওই বাসা থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। টাকা নিচে ফেলে দেয়ার পাশাপাশি তারা ইয়াবাগুলো নিজেদের শরীরে লুকিয়ে ফেলে। পরে তল্লাশি করে ৫ হাজার ৩০০ ইয়াবা পাওয়া যায়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে ২টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি জন্মনিবন্ধন সনদ ও ৬টি সিম কার্ডও উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা তুষার আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শওকত ২০০৮ সালে কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তিনি সরাসরি চট্টগ্রাম শহরেই বসবাস শুরু করেন। মর্জিনা ২০১২ সালে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। পরে তাদের বিয়ে হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কোটি টাকার উৎস সম্পর্কে তারা জানিয়েছেন, গত ১ সপ্তাহে তারা তাদের কাছে মজুদ সব ইয়াবা বিক্রি করে দেন। চলতি মাসেই মিয়ানমার থেকে ১টি বড় ইয়াবার চালান চট্টগ্রাম নগরীতে আনতে তারা নগদ টাকা জমাচ্ছিলেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার ভোরের কাগজকে বলেন, ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির কোটি টাকাসহ গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *