Breaking News

মুখে এসব পরিবর্তন স্বাস্থ্য সমস্যারও লক্ষণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মুখের পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু এসব পরিবর্তন মারাত্মক মেডিক্যাল সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

অত্যধিক মুখের লোমের সঙ্গে আপনার চোখের চারপাশে ডার্ক সার্কেল অথবা ব্রণের আবির্ভাব উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পাতলা ভ্রু এবং গালের ওপর লাল দাগ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া’স পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুসান টেইলর যুক্তরাষ্ট্রে মেগিল কেলি টুডে শোতে মুখের পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সমস্যাসমূহ ব্যাখ্যা করেন।

  • পাতলা ভ্রু থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ হতে পারে

আপনার বয়স বাড়লে আপনার চুল সাধারণত পাতলা ও শুষ্ক হতে থাকবে এবং চুল পড়ে যাওয়াটাও বেশ কমন বিষয়। এছাড়া অত্যধিক প্লাকিংয়ের কারণে ভ্রু পাতলা হতে পারে।

কিন্তু আপনার ভ্রু পাতলা হওয়ার অন্য একটি কারণ হতে পারে আন্ডারঅ্যাক্টিভ বা লো থাইরয়েড, যাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে।

ডা. টেইলর বলেন, ‘আপনার অন্যান্য উপসর্গের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ, হাইপোথাইরয়েডিজম থাকা লোকেরা ক্লান্তি ও অলসতা অনুভব করে। আপনি সবসময় ঠান্ডা অনুভব করতে পারেন।

তিনি যোগ করেন, ‘আপনার ত্বক শুষ্ক হতে পারে, এমনকি শীতের স্বাভাবিক শুষ্কতার চেয়েও বেশি শুষ্ক হতে পারে। আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।’

যদি এসব উপসর্গ থাকে আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন হবে এবং একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা আপনার হাইপোথাইরয়েডিজম আছে কিনা নির্ধারণ করতে পারে।

  • মুখে বেশি লোম ও ব্রণ পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের ইঙ্গিত হতে পারে

জেনেটিক কারণে আপনার মুখে লোম গজাতে পারে। অনেক কিশোর-কিশোরীদের ব্রণ হয়ে থাকে ও তা বড় হয় এবং এটি স্ট্রেস বা মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

কিন্তু এই উপসর্গ কোনো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণেও হতে পারে। পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম এই উপসর্গকে টেস্টোস্টেরনের উচ্চ মাত্রার দিকে ধাবিত করতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি কমন ব্যাধি যা কোনো নারীর ডিম্বাশয়ের কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধারণা করা হয় যে, এটি প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে প্রায় একজনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে আপনার ডিম্বাশয় বড় হয়ে ওঠে এবং তাতে তরলভর্তি অনেক থলি থাকে যা ডিম্বকে ঘিরে রাখে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম টাইপ ২ ডায়াবেটিস বিকাশের ঝুঁকি বৃদ্ধি ও উচ্চ কোলেস্টেরল মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে কোনো ডাক্তার বা গাইনিকোলজিস্টকে দেখানোর জন্য ডা. টেইলর পরামর্শ দেন।

  • গালে ব্লচ বা লাগ দাগ লুপাসের লক্ষণ হতে পারে

কিছু লোকের মুখে খুব সহজে ব্লাশ বা লাল দাগ হতে পারে- মানসিক বিহ্বলতা বা স্ট্রেস, অ্যালকোহল সেবন কিংবা ঝাঁঝালো খাবার খাওয়ার কারণে এরকম হতে পারে।

বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে এটি মেনোপজের অপরিহার্য অংশ হতে পারে, যেখানে সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে একজন নারীর মাসিক পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু ডা. টেইলর একটি অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত লিঙ্ক ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আপনার গাল এবং এমনকি চিবুক লাল হয়েছে কিনা লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি গ্রীষ্মের সময় ত্বকের লালতা তীব্র হয়, তাহলে আপনার শরীর আপনাকে জানান দিচ্ছে যে আপনার অটোইমিউন ব্যাধি লুপাস আছে।

লুপাস একটি জটিল এবং দুর্বোধ্য অবস্থা যা আপনার শরীরের অনেক অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। উপসর্গের রেঞ্জ হালকা থেকে জীবন-হুমকিমূলক পর্যন্ত হতে পারে।

ডা. টেইলর অন্যান্য উপসর্গের কথা বলেছেন, যেমন- আর্থ্রাইটিস, জয়েন্ট ব্যথা, মাংসপেশী ব্যথা, নিশ্চেষ্টতা বা দুর্বলতা। কিন্তু প্রায়ক্ষেত্রে লুপাসের উপসর্গ হতে পারে শুধুমাত্র মুখের লালতা।

  • আন্ডার-আই সার্কেল ডার্মাটোমায়োসিটিসের লক্ষণ হতে পারে

ঘুমের অভাবকে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগের জন্য দায়ী মনে করা হয়, কিন্তু অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও আছে।

এসব ডার্ক সার্কেল আপনার খাবারে অত্যধিক লবণের লক্ষণ হতে পারে, অথবা এটি আপনার দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জি চোখের কাছের রক্তনালীকে প্রসারিত করছে বা লিক করছে বোঝাতে পারে।

চোখের আশপাশে লালতা বা কালো দাগ ডার্মাটোমায়োসিটিসের লক্ষণও হতে পারে। এটি একটি বিরল অটোইমিউন ডিসঅর্ডার যা মাংসপেশীর ব্যথা ও মাংসপেশীর দুর্বলতার কারণ। এ রোগের কারণে আপনি চলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন এবং হাঁটা বা দাঁড়ানোর পর অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। আপনার মধ্যে এ রোগ সাস্পেক্ট হলে আপনার এমআরআই, ব্লাড টেস্ট এবং মাসল বা স্কিন বায়োপসি প্রয়োজন হবে। ডার্মাটোমায়োসিটিসের চিকিৎসার প্রধান ওষুধ স্টেরয়েড।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *