অপছন্দের মানুষকেই ভালো লেগে গেল

কখন কাকে ভালো লেগে যায়। মডেল: আশা ও জিহাদ। ছবি: অধুনাকথায় আছে, মানুষের মন বড়ই বিচিত্র। আজ যে কাজকে শখের মনে হচ্ছে, কদিন পরেই সেটি মনের বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে। এটি শুধু শখ বা কোনো কাজের ক্ষেত্রেই নয়; এমনটি হতে পারে মানুষের ক্ষেত্রেও। কিছুদিন আগেও যে মানুষটিকে খুব অপছন্দ করতেন, আজ হয়তো সেই মানুষকেই আপনার ভালো লাগছে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে এমন অনেক নজির মেলে। ক্লাসের যে ছেলেটির সঙ্গে কথাই হতো না, সেই এখন আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কখনোবা এই মানুষই হতে পারে আপনার পথচলার সঙ্গী।
অপছন্দের মানুষটিই যখন পছন্দের
কথা হয় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এবং কাউন্সেলর অ্যানি বাড়ৈয়ের সঙ্গে। তিনি বলন, ‘এই পছন্দ এবং অপছন্দের ব্যাপারটি খুবই মজার। আপনি হয়তো মনে করবেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়, যেখানে আমরা নিজেরাই সবকিছু নির্ধারণ করি। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তা নয়। কেননা, আমরা যখন কারও সম্পর্কে কোনো কিছু ভেবে নিই, সেটা কিন্তু পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয় না। মানুষটি হয়তো অপছন্দের কিংবা বিরক্তিকর। কিন্তু এমন নয় যে মানুষটি সবার কাছেই এমন। হয়তো কোনো কারণে আপনি তাকে এমনটি ভেবে নিচ্ছেন। তাই এখানেই প্রশ্নটি আসে, কেন আপনি তাকে অপছন্দ করছেন?’
কেন আপনি কাউকে অপছন্দ করছেন
ভিন্ন মতামত
এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অন্যতম কারণটি হলো যখন সেই মানুষটির সঙ্গে আপনার নিজের মূল্যবোধ বা চিন্তা মিলছে না। আমরা কিন্তু সূক্ষ্মভাবে ধরেই নিই যে অন্য প্রান্তে থাকা মানুষটিও আমার মতো চিন্তা করবে। তাই কারও যখন ভিন্ন মতামত থাকে, তখন সেটা একটু হলেও আপনার মধ্যে বৈরিভাব তৈরি করবে।
ভালো এবং মন্দের পার্থক্য
যখন কারও সঙ্গে নিজের মতামত মিলছে না, তখন সাধারণভাবে আমরা ধরে নিই মানুষটি তো অত ভালো না। কিন্তু ভালো এবং মন্দের এই পার্থক্যও নিরপেক্ষ নয়। যে মানুষটিকে একটি কাজের জন্য আপনি খারাপ বলছেন, সেই মানুষেরও কিন্তু ভিন্ন দিক রয়েছে। কেননা, ভালো এবং মন্দ মিলিয়েই একজন ব্যক্তির চরিত্র।
আর যখন সেই ব্যক্তিকেই ভালো লাগতে শুরু করে

সাদা এবং কালো, দুটি একেবারেই ভিন্ন রং। দুই প্রান্তে থাকা দুটি রং। কিন্তু মানুষের আবেগকে সহজেই এভাবে পৃথক করা যায় না। অ্যানি বাড়ৈ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভিন্ন আবেগ থাকে। তাই খুব সহজেই ঘৃণা এবং ভালো লাগাকে যাচাই করা যায় না। সাদা এবং কালোর মিশ্রণে যে ধূসর রং তৈরি হয়, আমাদের আবেগটাও অনেক সময় এমন হয়ে যায়।’ না, তার মানেই এই নয় যে যাদের প্রত্যকেকেই আমরা অপছন্দ করি, একটা পর্যায়ে তাদের সবাইকেই আমরা পছন্দ করি। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়। নতুন কোনো বন্ধুত্ব, কিংবা বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া কোনো যুগলের মধ্যেই এমন দেখা যেতে পারে।
একই ব্যক্তির মধ্যে কেন হয়?
সমানূভুতির সঙ্গে দেখা
হ্যাঁ, প্রতিটি মানুষেরই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। কেননা, আমরা প্রত্যেকেই ভিন্ন পরিবেশে বড় হই। তাই আপনার কাছে যেটা ভালো, তা অন্যের কাছে সহজেই গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এই ব্যাপারটিই যখন গড়ে ওঠে, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আর অপছন্দের তালিকার মানুষটি চলে আসে পছন্দের তালিকায়।
নিজের ভুল যাচাই করা
বিবাদ তো হয়েই থাকে। কিন্তু সবটুকু দোষ কি অন্য পক্ষের? নিজের দোষটাও ভেবে দেখুন। যেকোনো বিবাদ এড়াতেই মূল কারণগুলো ভেবে দেখা দরকার। এর ফলে সমাধাণটাও হয় স্থায়ী। আর যখনই আপনি নিজেকে এই অবস্থানে নিয়ে আসতে পারবেন, তখনই অপছন্দের মানুষটির অবস্থান বুঝতে পারবেন।
একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ
আলোচনায় সমস্যার সমাধান মেলে। হয়তো ক্লাসের সেই ছেলেটির সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলাপ হয়েছে। আপনি একটা সময় বুঝতে পেরেছেন যে আপনার সহপাঠী আসলেই তেমন নয়, যেমনটা আপনি ধরেই নিয়েছিলেন। সময় এবং যোগাযোগের সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু বদলে যায়।

অন্য পক্ষকে ছাড় দেওয়া
আর যখনই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার ধারণাটা পুরোপুরি সঠিক ছিল না, তখনই আপনি অপর প্রান্তের মানুষটিকে বলার সুযোগ দেবেন। এতে কিন্তু আপনাদের মধ্যেই যোগাযোগটা বেড়ে যাবে। ফলে একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষটির প্রতি আপনার ভালো লাগা তৈরি হতেই পারে।
সে ক্ষেত্রে কী করবেন
যেহেতু যোগাযোগ, একে অপরের সমানূভুতির মধ্য দিয়েই আপনার কিংবা অপছন্দের মানুষটিরও মানসিকতা বদলে গিয়েছে, সেহেতু বন্ধুত্বটা করেই ফেলুন। কিংবা একে অপরের ভুল স্বীকার করে নিতে পারেন। কেননা, এভাবে তৈরি হওয়া অনেক সম্পর্ক রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত অমলিন থেকে যায়। তাই বন্ধুসুলভ হাতটা নাহয় এবার বাড়িয়েই দিন!

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *