মস্তিষ্ককে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে যা করতে হবে

আমরা সব রেসের মাঠের ঠুলি পরা ঘোড়া হয়ে গেছি যেন। প্রাণপণে দৌড়াচ্ছি।
লক্ষ্য একটাই, উন্নতি, অর্থনৈতিক এবং সমাজিক তো বটেই। কিন্তু এমনটা করতে গিয়ে অজান্তেই জড়িয়ে পড়ছি দুশ্চিন্তার জালে। আর জড়াবো নাই বা কেন বলুন! নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলার ভয় তো সবার মনেই থাকে, তাই না! আর কখন এই ভয় যে দানবের চেহারা নেয়, তা আগে থেকে বোঝা সম্ভবই হয়ে ওঠে না।

আর এই অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তাকে বাগে আনতে নিয়মিত যা করতে হবে…

১. বাদাম খেতে হবে
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত এক মুঠো করে বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে মস্তিষ্কের অন্দরে কর্টিজল নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমতে শুরু করে। ফলে একদিকে যেমন অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা কমে, তেমনি অন্যদিকে মনও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, বাদাম ছাড়াও মাছ, আখরোট এবং ফ্লেক্সসিড বা শ্বেতবীজেও প্রচুর মাত্রায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. মাছ-মাংস খেতে হবে বেশি করে
বিশেষজ্ঞদের মতে এমন ধরনের খাবার খেলে শরীরে লে-লাইসাইন নামে এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা নিউরোট্রান্সমিটারের ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে ব্রেন পাওয়া বাড়াতে সাহায্য করে। আর একবার ব্রেন পাওয়ার বেড়ে গেলে অ্যাংজাইটি কমতেও সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, মাছ এবং মাংস ছাড়াও বিনিসেও লে-লাইসাইনের সন্ধান পাওয়া যায়।

৩. গায়ে রোদ লাগাতে হবে
গবেষণা বলছে শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে দুশ্চিন্তা কমে। তাই তো দেহে কোনওভাবেই যাতে এই ভিটামিনটির ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ভিটামিন ডি-এর সবথেকে ভাল সোর্স হল সূর্যের আলো। তাই সকাল বেলা, এই ধরুন ৭-৯ টার মধ্যে প্রতিদিন গায়ে রোদ লাগানোর চেষ্টা করবেন, এমনটা করলে দেখবেন চিন্তা আর মগজ ধোলাই করতে পারবে না।

৪. শরীরচর্চায় খরচ করতে হবে ঠিক ২১ মিনিট
একাধিক কেস স্টাডি করে বিশেষজ্ঞরা জানতে পেরেছেন নিয়মিত মাত্র ২১ মিনিট শরীরচর্চা করলে এন্ডোরফিন নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যেতে শুরু করে। এই হরমোনটি মনকে চাঙ্গা করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো এন্ডোরফিনের ক্ষরণ যত বৃদ্ধি পায়, তত চিন্তা কমতে থাকে, বাড়তে থাকে আনন্দ।

৫. দুই কাপের বেশি কফি নয়
ভুলেও দিনে দুই কাপের বেশি কফি খাবেন না যেন! আসলে শরীরে ক্যাফিনের মাত্রা বাড়তে থাকলে এনার্জির ঘাটতি দূর হয় ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে অ্যাংজাইটি লেভেলও বাড়তে শুরু করে, যা শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়। তাই এবার থেকে কফির মাত্রা কমিয়ে গ্রিন টি খাওয়া শুরু করতে পারেন। এমনটা করলে শরীরের উপকার তো হবেই, সেই সঙ্গে অ্যাংজাইটি লেভেল বাড়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

৬. ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এবং জিঙ্কের ঘাটতি যেন না হয়
এই তিনটি উপাদান মস্তিষ্ক এবং শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ভুলেও যেন এদের ঘাটতি না হয়, বিশেষত ভিটামিন বি১২-এর। এক্ষেত্রে ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। যে যে খাবারে এই উপাদানগুলি বেশি মাত্রায় রয়েছে, সেগুলি খেলেই দেখবেন আর কোনও চিন্তা থাকবে না। প্রসঙ্গত, ভিটামিন বি১২ প্রচুর মাত্রায় থাকে মাছ, মাংস, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার এবং ডিমে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *