শীতের শুরুতেই খাবেন যেসব খাবার

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির শিশির ভেজা ভোর। কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব দিগন্তে সূর্যের উদয়। শীতের আমেজ না, সত্যিকারের শীত। সেই সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে মৃদু ঠাণ্ডা শীত। ঢাকা শহরে না হলেও গ্রামগঞ্জে কিন্তু শেষ রাতে ঠাণ্ডা লাগে। শিশির পড়ে এবং হালকা কুয়াশাও দেখা যায়। এ সময়টাতেই বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন, না হলে রোগব্যাধি কাবু করে ফেলতে পারে।

শীতের শুরুতে প্রকৃতির সাথে সাথে শরীর ও মনে পরিবর্তন আসে। মৌসুমের পরিবর্তনে সেই সাথে আমাদের খাবারের তালিকায়ও আনতে হবে রদবদল। শীতের দিনে এমন খাবারগুলো তালিকায় রাখা উচিত যা শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখে। তাই শীতের শুরুতে খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই শীতে খাবার খাওয়ার প্রতি খাবার বাছাইয়ে সচেতন হোন।

এবার জেনে নেয়া যাক আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে যে খাবারগুলো বেশি বেশি খেতে হবে সে সম্পর্কে-

স্যুপ খান নিয়মিত

শীতে শরীর সুস্থ রাখতে স্যুপ বা ঝোল দারুণ উপকারী। শীতেই মেলে স্যুপের আসল মজা। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম-গরম চুমুক। শীতের বিকেলে বা রাতের খাবারে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি স্যুপ হলে কিন্তু মন্দ হয় না। এতে শরীর থেকে একটু হলেও কাটবে ঠাণ্ডার রেশ। শরীর সুস্থ রাখতে শীতের সময় নানা সবজি আর মুরগির মাংস বা ডিম দিয়ে বানিয়ে খেতে পারেন স্যুপ।

দুধ খান প্রতিদিন

প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে একদিনও খাওয়া থেকে দুধ বাদ দিবেন না।

গুড় খাওয়া ভালো

গুড় শরীরে জাদুর মতো কাজ করে। এটি শরীরে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে। শীতের শুরুতে নিয়মিত গুড় খেলে ঠাণ্ডা ও কাশি থেকেও দূরে থাকা যায়। ভেজালমুক্ত গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন শীতের শুরুতে।

বিট লবণ ব্যবহার করুন

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শরীরে অ্যাসিড জমতে থাকে। তাই প্রতিদিন যদি খাবারে বিট লবণ রাখা যায় তা শরীরের পক্ষেই ভালো।

ময়দার হালুয়া খান

ময়দা, ঘি, চিনি, এলাচ ও কিসমিস দিয়ে হালুয়া তৈরি করে খেতে পারেন। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের উষ্ণতা বাড়বে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

পালং শাক খান

শীতে বাজারে পালং শাক প্রচুর পাবেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শীতে সুস্থ থাকতে পালং শাক খেতে পারেন। পুষ্টিতে ভরপুর পালংয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসার প্রতিরোধী গুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত।

তুলসী পাতা ব্যবহার করুন

তুলসী পাতা দিয়ে নিয়মিত চা খেতে পারেন। অথবা এই পাতা রস করে নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ঠাণ্ডা-কাশি থেকেও মুক্তি দেয় তুলসী পাতা।

ঠাণ্ডা পানি এড়িয়ে চলুন

এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়, তাই ঠাণ্ডা পানি এড়িয়ে চলুন। কেননা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ঠাণ্ডা জাতীয় কিছু খেলে সর্দি, কাশি ও জ্বরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যান্য খাবারের সঙ্গে উপরোক্ত খাবারগুলো প্রতিদিন রাখুন ডায়েটে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে করল্লা খেতে নিষেধ করেন। কার্তিক মাসে করল্লা পেকে যায়। পাকা করল্লায় অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ করে। ফলে ফুড পয়জনিংসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময়ে করল্লা এড়িয়ে চলুন।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *