গোল মরিচ সম্পর্কে এই অজানা তথ্য গুলো জানেন! রয়েছে নানা রোগের সমাধান

গোলমরিচকে বলা হয় মশলার রাজা। কারণ এটির মত গুনাগুণ নাকি আর কোনও মশলায় এত নেই। এটি হল গাছের ফল। এটি মূলত দক্ষিণ ভারতের মূল মশলা। গোলমরিচ মশলা ও ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। গোলমরিচ হল সব থেকে উপকারী মশলা। এটি ডায়রিয়া, হার্টের অসুখ থেকে শুরু করে দাঁতের অসুখ অ্যানিমিয়া এমনকি সর্দি কাশিতেও বেশ কাজ দেয়। জেনে নিন গোল মরিচে কী কী উপকারিতা রয়েছে-

হজমে সাহায্য করেঃ গোলমরিচের মধ্যে পিপারিন নামক উপাদান থাকে, সেই জন্যই এটি ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। এটি হজমে দারুন ভাবে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে। আর ঠিক ভাবে খাবার হজম হলে ডায়রিয়ার মত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ক্যালোরি কমায়ঃ কেউ যদি তাঁর ডায়েট চার্টে রোজ গোলমরিচ রাখেন, তাহলে শরীর থেকে টক্সিন ঘামের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। টক্সিন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলেও গোলমরিচ কাজে দেয়। ওজনও কিছুটা কমে। গোলমরিচ ফ্যাট সেলগুলিকে ভেঙ্গে দেয় এবং ক্যালোরি কমায় ও এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধঃ গোলমরিচের মধ্যে যে পিপারিন নামক উপাদানটি থাকে সেটি ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে আছে ভিটামিন এ , সি ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেটি ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকেলসে্র হাত থেকে এবং আমাদের শরীরকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়।

সর্দি কমাতে সহায়তা করেঃ সর্দি কাশিতেও এই গোলমরিচ দারুন ভাবে কাজ করে। এক চামচ গোলমরিচ গুড়ো ও মধু এই সমস্যার সমাধান করে। এটি বুকে জমা সর্দি তুলতেও সাহায্য করে। যেকোনো ভাইরাল ইনফেকশন রোধ করে।

গরম জলে গোলমরিচ আর একটু ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে, সেই স্টিমটা নিলে বন্ধ নাক ছেড়ে যায়। হালকা সর্দি কাশি ছাড়াও যদি জ্বর আসে তাতেও গোলমরিচ কাজে দেবে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। জ্বরের সময় গোলমরিচ খেলে অত্যন্ত ঘাম হয় এবং জ্বর ছেড়ে যায়। গলা ব্যাথা কমাতেও সাহায্য করে। তাই ঠাণ্ডা লাগলে গোলমরিচ খান।

সর্দি কাশি হলে মুখে অরুচি আসে। কিছুই খেতে ভালো লাগেনা। তা সারাতে ভীষণ ভাবে সাহায্য করে গোলমরিচ। জিভের স্বাদকোরকগুলিকে সক্রিয় করে তোলে। মুখে স্বাদ আনার জন্য গোলমরিচের সঙ্গে একটু গুড় মিশিয়ে খেলে উপকার হয়।

এছাড়া গোল মরিচের অন্যান্য উপকারিতা সমূহঃ

১) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যা থাকলে গোলমরিচ ভরসা। এক কাপ গরম জলে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হয় সহজেই। গলা ব্যথাও কমে।

২) গোলমরিচ খেলে শরীর গরম হয়ে ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন কমতে থাকে। ফলে ত্বক ভাল থাকে ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে হাই প্রেশারের সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যান।

৩)ত্বকের রোগ থাকলে গোলমরিচ কাজে লাগান। গোলমরিচ গুঁড়ো করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ।

৪) দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে মুখে গোলমরিচ রাখতে পারেন। ব্যথা নিরাময় করতে গোলমরিচ সাহায্য করে। গোল মরিচ ভেজানো জল দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ব্যাকটেরিয়াও দূর হবে।

৫) গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে। কারণ এটি পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়। হজম ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়েরিয়ার মতো সমস্যাকে এড়ানো যায়। হজমের সমস্যা থেকে অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সেইগুলি এড়ানো যায়। পেটে গ্যাস হওয়া রুখতেও গোলমরিচ সাহায্য করে।

৬) গোটা মরিচের খোসা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ফলে গোলমরিচ দিয়ে খাবার বানান। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে সহজেই।

৭) গোলমরিচ ডায়রিয়া,কলেরা ও আরথারাইটিস কমাতেও সাহায্য করে।

৮) গোলমরিচ খেলে শরীরের সব দিকে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। তার ফলে ব্যাথা কমে। দাঁত ভালো রাখতেও গোলমরিচ সাহায্য করে।

৯) দাঁতে ব্যাথা করলে গোলমরিচ বেটে লাগালে উপকার হয়। এছাড়া মুখের ভেতরের দুর্গন্ধ দূর করতেও গোলমরিচ উপকারী।

১০) পেটে গ্যাস হলে আপনার খাবারে যোগ করুন গোলমরিচ। বদহজম এবং তার ফলে পেট ভারী লাগা এই সব কিছু কমায় গোলমরিচ। পেটে গ্যাসের অসহ্য ব্যাথা করলেও সেই ব্যাথা কমায় গোলমরিচ।

১১) ত্বকের জন্যও গোলমরিচ বেশ উপকারি। এটি শরীরকে ভেতর থেকে সচল রাখে। বাইরের ক্ষতিকারক সূর্য রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। আর এটি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

১২) হালকা ঠাণ্ডা লাগলে আগে গোলমরিচ খান। তারপর ওষুধ। যদি ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচতে, বা ত্বককে ভালো রাখতে চান, খান গোলমরিচ। আর যদি সুস্থ্য থাকতে চান, তাহলে রোজ রান্নায় এবার থেকে একটু করে গোলমরিচ দিতে ভুলবেন না।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *