দীপাবলিতে বাজি ফোটাতে মানা করে বিপদে কোহলি

বিরাট কোহলি ভালো মনেই কথাটা বলেছিলেন। প্রতি শীতেই ভারতে দূষণ বেড়ে যায়। গত বছরের এ সময়টায় নিশ্বাস নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল দিল্লিতে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স শব্দটা ব্যাপক আলোচনা তুলেছিল সেবার। বায়ুদূষণের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে উঠেছিল যে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। এ জন্যই হয়তো একটু সাবধান করতে চেয়েছিলেন কোহলি। এবারের দীপাবলিতে সবাইকে সাবধানে আনন্দ করতে বলেছেন। বলেছেন বাজি না ফোটাতে। কারণ, আতশবাজির কারণে বায়ুদূষণ হয়।

সন্দেহ নেই খুবই ভালো উদ্যোগ। গত বছর বায়ুদূষণের পেছনে ফসলের জমির অবশিষ্ট পোড়ানো এবং গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে দীপাবলির আতশবাজির কথাও বলা হয়েছিল। তাই নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে এই করোনার সময়টায় বায়ুদূষণ কমিয়ে আনার একটা চেষ্টা করেছিলেন কোহলি। কিন্তু ১৪ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁর এ বার্তা পছন্দ হয়নি ভক্তদের। কোহলির নিজের জন্মদিনে আতশবাজি পোড়ানোর এক ভিডিও হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্যস, ঝড় ওঠার জন্য আর কিছুর দরকার হয়নি। কোহলিকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে ভণ্ডামির কথা তুলে।

অস্ট্রেলিয়ায় সফরের কারণে দেশে নেই কোহলি। কিন্তু উৎসবের আমেজে ভেসে টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে সবাইকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। সে ভিডিওতে কোহলিকে বলতে দেখা গেছে, ‘আপনাকে ও আপনার পরিবারকে আমার পক্ষ থেকে শুভ দীপাবলি। ঈশ্বর এবারের দীপাবলিতে আপনাকে শান্তি, উন্নতি ও আনন্দ দিক। শুধু মনে রাখবেন, পরিবেশকে রক্ষা করতে বাজি ফোটাবেন না। বরং আপনজনদের নিয়ে শুধু দীপ জ্বালিয়ে ও মিষ্টি খেয়েই এই দারুণ সময়টা উপভোগ করুন।’

বার্তাটা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু আইপিএলের কড়া ভক্তদের কাছে এ বার্তা সঠিক মনে হয়নি। কোন দল কী করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী বলছে—এগুলো খুব মনোযোগ দিয়েই খেয়াল করেন সবাই। আর গত ৫ নভেম্বর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু বিরাট কোহলির জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সে ভিডিওতে ভক্তদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল কোহলির কাছে। সে ভিডিওতে একটি মুহূর্তে আতশবাজি ফোটানোর দৃশ্য ছিল, যা দেখে মনে হয়েছিল, শুধু কোহলির জন্মদিন উপলক্ষেই এই আতশবাজির আয়োজন। তাই ভারতের দর্শকদের কোহলির এখন পরিবেশের দোহাই দিয়ে দীপাবলিতে বাজি ফোটাতে মানা করাটা ঠিক পছন্দ হয়নি। টুইটারে তাই সবাই পড়েছেন কোহলিকে নিয়ে।

শেফালি বৈদ্য নামের এক টুইটার ব্যবহারকারী সরাসরি তো কোহলিকে ‘ভণ্ড’ বলেছেন, ‘এমন নামকাওয়াস্তে নায়কদের ভণ্ডামি দেখে ক্লান্ত। কোহলি ক্রিকেট খেলাতেই মন দেন। আমরা কীভাবে উৎসব উদযাপন করব সে ব্যাপারে জ্ঞান দিতে আসবেন না।’ সত্যম শিবাম নামের আরেক ব্যবহারকারীও বেশ কড়া কথা শুনিয়েছেন, ‘তারা জ্ঞান দিচ্ছে দীপাবলিতে বাজি ফোটালে দূষণ হবে। অথচ নিজেরাই নতুন বছরে বা ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ফোটায়। ফালতু।’

আরেক নেটিজেন কোহলির বিলাসবহুল জীবন ও পরিবেশের ওপর তাঁর প্রভাব হিসাব করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘ঘরেই শো-রুম বানিয়ে রেখেছেন গাড়ি কিনে। এমন সব গাড়ি যেগুলো লিটারে ১০ কিলোমিটারও যায় না। এবার বসে হিসাব করে দেখুন (যদি পারেন) প্রতি কেজিতে কত কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ছেন বাতাসে। তাহলেই বুঝবেন কতটা বেকুবের মতো শোনাচ্ছে আপনাকে।’ আরেক ভক্ত আইপিএলের সময় আতশবাজি পোড়ানোর কথা তুলে ধরেছেন, ‘সব টুর্নামেন্টের শুরু আর শেষ হয় আতশবাজিতে। স্পনসরদের তখন এটা বলেন না কেন? দুই দিনের দীপাবলিতেই আবহাওয়া শেষ হয়ে যাবে। এটা নেটফ্লিক্সের কোনো সিরিজ না, এটা আমাদের দীপাবলি।’

কোহলির এমন বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি। যে ভিডিওর কারণে এভাবে খোঁচা খেতে হলো কোহলিকে, সে ভিডিও তো তারাই দিয়েছিল। তড়িঘড়ি করে জানিয়েছে, ‘ভিডিওতে যে আতশবাজি দেখা গেছে, সেটা তাঁর জন্মদিনের জন্য নয়! টুইটারে বেঙ্গালুরুর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আশা করি আপনারা সবাই বন্ধু ও পরিবার নিয়ে খুব আনন্দের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ দীপাবলি কাটাচ্ছেন। আরসিবির উদযাপনের ভিডিওতে যে আতশবাজি দেখা গেছে, সে বিষয়টা খোলাসা করা উচিত। এটা আসলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা দিবসের উদযাপনের ধারণকৃত দৃশ্য ছিল। আরসিবি আবহাওয়া রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে বরাবরের মতোই।’

৩ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত পতাকা দিবস পালন করে। সেই আতশবাজির ভিডিও যোগ করেই অধিনায়ককে এমন বিপদে ফেলল বেঙ্গালুরু!

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *