অন্য-অনন্য শেখ হাসিনা!

শেখ হাসিনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী। প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। টানা তৃতীয় মেয়াদসহ মোট ৪ বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা কাজে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিভিন্ন ফোরামেও ভূমিকা রেখে চলেছেন। সংগঠন, অফিস, সংসদ, পরিবার প্রায় সব কাজই সমানতালে করে চলেছেন। নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন দেশের ক্রীড়া, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিনোদন জগতের। নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও। সময় ও সুযোগ পেলেই বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে যেমন নিজ হাতে রান্না করেন, তেমনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকেই উঠেই আদায় করেন ফজরের নামাজ। এরপর কুরআন তেলাওয়াত। সকালের চা তৈরি করেন নিজ হাতেই। চা পানের ফাঁকেই চোখ বুলিয়ে নেন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায়। এরপর হাঁটতে বের হন। সময় পেলেই গণভবনের ভেতরে থাকা লেকে মাছ ধরতে পছন্দ করেন। খেলতে পছন্দ করেন পরিবারের সদস্য ও শিশুদের সঙ্গে।

মাঝে মাঝেই তার ব্যক্তিগত জীবনচর্চার কৌতূহল উদ্দীপক কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কখনো তিনি শিশুদের সঙ্গে খেলছেন। তাদের পছন্দের চকলেট হাতে তুলে দিচ্ছেন। কখনো বা ছেলে জয়ের জন্মদিনে নিজ হাতে পছন্দের খাবার রান্না করছেন। আবার কখনো প্রতিবন্ধী শিশুদের দোলনায় দোল খাওয়াচ্ছেন। ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেও দেখা গেছে তাকে। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশের ফুটবল বা ক্রিকেট- কোনো খেলা দেখা বাদ যায় না তার। জয় বা পরাজয় সর্বদাই দেশের খেলোয়াড়দের টেলিফোনে কথা বলে উৎসাহ দেন। ক্রিকেট বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বাসায় নিজেই রান্না করে খাবারও পাঠিয়েছেন তিনি। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত টুঙ্গিপাড়া গিয়ে সুযোগ পেলেই ভ্যানে চড়ে ঘুরতে দেখা গেছে তাকে। শিশুদের চুলের বেনি করে দিতেও দেখা গেছে কখনো কখনো। এরকম অসংখ্য মানবিক গুণাবলি আছে বঙ্গবন্ধু কন্যার, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সাধারণ মানুষও প্রশংসা ও উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য লেখেন তাতে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও ঘরোয়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে থাকেন।

এ রকমই দুটি ছবি গতকাল শনিবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী একান্তে সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও নিজ হাতে কাজের একটি অপূর্ব নিদর্শন এটি। দ্বিতীয় ছবিতে লেক থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন তিনি। মাছ ধরার আনন্দে উৎফুল্ল প্রধানমন্ত্রী মাছটির দিকে হাস্যোজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও সেলাই করা ও মাছ ধরার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য করতে দেখা যায়।

সর্বপ্রথম ছবি দুটি ভাইরাল হয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের পোস্টে। এরপর আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও সেটি শেয়ার করা হয়। ছবি দুটি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন ‘ক্যাপশন দেবার মতো বিদ্যা আমার নাই!’ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও শেয়ার করেন ছবি দুটি।
আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লেখা আছে ‘সাধারণ বাঙালি নারী আমাদের

প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। নানা ব্যস্ততার মাঝে তিনি অবসর পেলেই সেলাই করেন কাপড় আর মাছ ধরতে যান গণভবনের পুকুরে। সব হারিয়ে দেশের জন্য সারা দিন কাজ করে যাওয়া এই অনন্য সাধারণ মানুষটির জন্য অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা’।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *