রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে গ্রহণ করুন ৪ টি কিশমিশ সর্দি-কাশি ও গলায় সমস্যা থেকে পান চিরতরে মুক্তি

শীতের মরসুম আগত। এই সময় সর্দি-কাশি ও গলায় সমস্যা দেখা দেওয়া সাধারণ বিষয়। সাথে করোনার ভাইরাসের মতো মহামারী নিয়ে সকলেই চিন্তিত, তাই শীতের মরসুমে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। এর জন্য আপনি এ জাতীয় অনেকগুলি জিনিস গ্রহণ করতে পারেন, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধও করবে। এর জন্য, আপনি আপনার ডায়েটে শুষ্ক আঙ্গুর যোগ করতে পারেন। এগুলি শরীরের জন্য খুব উপকারী। এটি গ্রহণের ফলে ওজন হ্রাসের পাশাপাশি অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমরা আপনাকে শুষ্ক আঙ্গুর গ্রহণের উপকারিতা সম্পর্কে বলি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আপনি যদি রাতে গরম দুধে ৪ থেকে ৫ টি কিশমিশ খান তবে ঠাণ্ডা লাগা এবং সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এটির প্রত্যহ গ্রহণ টাইফয়েড জাতীয় রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

ওজন কমানো –
কিশমিশ গ্রহণ ওজন হ্রাসে অনেক সহায়তা করে। এটি শরীরে উপস্থিত ফ্যাট কোষগুলি ভেঙে দ্রুত ওজন হ্রাসে কার্যকর। এতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজের উপস্থিতি রয়েছে, তাই এর গ্রহণে শরীর শক্তি পায়, সুতরাং এটির গ্রহণ অত্যন্ত উপকারী।

মানসিক চাপ থেকে মুক্তি –
যদি আপনি মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন, তবে আপনার শুষ্ক কিশমিশ গ্রহণ করা উচিত, কারণ এতে অ্যারজিনাইন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যা স্ট্রেস লেভেল হ্রাস করতে সহায়তা করে। আপনি সকালে এটি খেতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী –
আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে আপনার শুকনো আঙ্গুর খাওয়া উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে এটি বেশ উপকারী। এর গ্রহণের ফলে পেটের যাবতীয় সমস্যা হ্রাস পায়।

বয়সের ছাপ বিলম্বিত করে:
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীরের কোষগুলোকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক ভালো রাখে, বয়সের ছাপ সহজে পড়তে দেয় না।

মুখের স্বাস্থ্যবান্ধব:
কিশমিশ মিষ্টিজাতীয় খাবার হলেও দাঁত বা মুখের কোনো ক্ষতি করে না। বরং মুখের স্বাস্থ্য বা ওরাল হেলথের পক্ষে কিশমিশ বিশেষভাবে উপকারী। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ওরাল ব্যাকটেরিয়া নিমূর্ল করতে সাহায্য করে।

দাঁতের জন্য ভালো:
কিশমিশের শর্করা মূলত ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ জাতীয়। ফলে দাঁতে কোনো ক্যাভিটি তৈরি হয় না। সকালের নাশতা অথবা দুপুরের সালাদে কিশমিশ রাখতে পারেন নির্দ্বিধায়।

ফলের বিকল্প:
গাজর, নানা রকম ফল নিয়মিত খেতে বলা হয় দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা ও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখার জন্য। কারণ এগুলোতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, ক্যারোটিনয়েড ইত্যাদি। সঠিক পরিমাণে এগুলো পেতে গেলে দিনে অন্তত ৩টি ফল খাওয়া উচিত। সব সময় তা সম্ভব নাও হতে পারে। বিকল্প হিসেবে তখন খেয়ে নিতে পারেন একমুঠো কিশমিশ।

শক্তি প্রদানকারী:
কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যা তাত্‍ক্ষণিকভাবে শক্তি প্রদান করে। একমুঠো কিশিমিশ বাদামের সাথে মিশিয়ে খান। এতে প্রচুর পরিমাণে এনার্জি, প্রোটিন এবং ফাইবার পাবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিশমিশ খুব কাজে দেয়। কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করতে রোজ খানিকটা কিশমিশ খান।

রক্তস্বল্পতা দূর করে:
কিশিমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়াম। যা রক্তস্বল্পতা দূর করে ও রক্তের সংবহন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *