ঋতু বদলের এই মরশুমে সুস্থ থাকার জন্য সঠিক ডায়েট মানছেন তো?

বর্ষা শেষ, হেমন্ত জাঁকিয়ে বসেছে। প্রতিটি মরশুম অনুযায়ী আপনার ডায়েট চার্ট বদলে ফেলাও খুব জরুরি। মরশুমি ফল-পাকুড়-সবজির মধ্যে এমন কিছু গুণ থাকে, যা আপনাকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখবে ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শক্তিও জোগাবে। সারা বছর অ্যাভোকাডো বা ব্রকোলি না খেয়ে বরং জেনে নিন এই মরশুমে ঠিক কোন কোন খাবার বেছে নেওয়া আপনার সুস্থতার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।

পরিজ: আপনি ওটমিল আর দুধ দিয়ে পরিজ রাঁধতে পারেন, একেবারে দেশি মতে চিড়ের পায়েসও বানানো যায়। তবে অতিরিক্ত চিনি না মিশিয়ে আস্থা রাখুন মধু বা গুড়ে। সঙ্গে বাদাম বা কুমড়ো-সূর্যমুখির বীজও মেশাতে পারেন। এই জলখাবার আপনার পেট ভরিয়ে রাখবে বহুক্ষণ। দুধ জোগাবে প্রোটিন, বাদাম ও বীজ থেকে মিলবে ফ্যাট, চিড়ে বা ওটস দেবে কার্বোহাইড্রেটের জোগান। এর মধ্যে কলা বা আপেলের মতো ফলের টুকরোও মিশিয়ে নিতে পারেন। হালকা উষ্ণ অবস্থায় খান, তাতে হিমেল সকালও হয়ে উঠবে উপভোগ্য।

ভিটামিন সি: কমলালেবু, বাতাবি, আপেল, আমলকী – সোজা কথায় এই সময়ে যে সব ফল মেলে, তা প্রত্যেকদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা আবশ্যক। ভিটামিন সি আপনার প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম, তার ফলে মরশুম বদলালেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন না। সর্দি-কাশিতেও ভুগবেন না। যদি ভিটামিন সি গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তা হলে এনার্জি লেভেলে ঘাটতি টের পাবেন না কখনও।

পালংশাক: পালংশাকের মরশুম শুরু হয় ঠিক এই সময় থেকেই। সারা বছর সার দিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে তোলা পালং মেলে, শীতের দিনে মেলে তাজা শাক। জ়িঙ্কে ভরপুর পালংশাক আপনাকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখবে। ঠান্ডা লাগবে না চট করে।

আয়রন: খাদ্যতালিকায় আয়রনের ঘাটতি হলে চলবে না একেবারেই। বাঁধাকপি, মেথি, মুলো, পালং, সরষে ইত্যাদি সবুজ শাক, ডাল, মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে। যদি মনে হয় খাবার থেকে যথেষ্ট আয়রন পাচ্ছেন না, তা হলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। আয়রন আপনাকে ভিতর থেকে শক্তপোক্ত হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

ভিটামিন বি12: মাছ, ডিম, দুধ, চিজ়, ছানা ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন বি12 থাকে। তা আপনার ক্লান্তি কাটায় ও চনমনে রাখে।

কন্দ জাতীয় সবজি: মিষ্টি বাদ দিন খাদ্যতালিকা থেকে, বদলে গাজর, বিট, মুলো, আদা, রসুনের মতো সবজি খান স্যালাড, স্যুপের মাধ্যমে। মাটির নিচের সবজির স্বাদ এমনিতেই মিষ্টি হয়, তা রোস্ট করে বা সেদ্ধ খেতেও ভালো লাগবে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *