জেএসসি-এএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও কমতে পারে এইচএসসির নম্বর

জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ওপর এবারের এইচএসসির ফলাফল তৈরি করা হবে। এ দুই পরীক্ষায় যাদের সব বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর রয়েছে তারা জিপিএ-৫ পাবে। তবে আগের দুই পরীক্ষায় অতিরিক্ত ও ব্যবহারিক বিষয়ে বেশি নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ পেলেও এইচএসসিতে মোট নম্বরের ওপর জিপিএ কমে যেতে পারে।

এসএসসির ফল ৭৫ শতাংশ ও জেএসসির ২৫ শতাংশ গুরুত্ব দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক নম্বরকে জিপিএতে রূপান্তর ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) শিক্ষার্থীদের এসএসসির ফলাফলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নম্বর এইচএসসিতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার অটোপাসের নম্বর মূল্যায়ন কমিটি। চলতি সপ্তাহে এটি অনুমোদন দিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাঠালে ফলাফল তৈরির কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সব পরীক্ষার্থীকে অটোপাস ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর মূল্যায়ন করে এ পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা গত দুই সপ্তাহ আগে এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনামূলক একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

জানা গেছে, আগের পরীক্ষার ফলের চেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় কিছুটা নম্বর কম পেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ স্তরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করে। আর ফল বাড়লে সেটা কী পরিমাণ বাড়ে তা খতিয়ে দেখতে দুই লক্ষাধিক পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে গত বছরের ৯০ শতাংশ ও বিগত অন্যান্য বছরের ১০ শতাংশ উত্তরপত্র ছিল। তাদের মধ্যে শহর-গ্রামের ভালো ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, সর্বশেষ যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তার প্রশ্ন-উত্তরের অনেক কিছু শিক্ষার্থীদের মনে থাকে। আর জেএসসি অনেক আগে শেষ হওয়ায় সেসব বিষয় ভুলে যায় বলে এসএসসি-সমমানে ৭৫ শতাংশ আর জেএসসি-জেডিসিতে ২৫ শতাংশ নম্বর মূল্যায়ন নীতিকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে জেএসসি এবং এসএসসিতে কোনো বিষয়ে ভিন্নতা থাকলে সেটি বিজ্ঞান, বাণিজ্য নাকি মানবিক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত সেটি দেখা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউকে বলেন, ‘পরীক্ষা ছাড়া সাবজেক্ট ম্যাপ ও বিন্যাস অনুকরণ জটিল বিষয়। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়াটা আরও জটিল। তবে কাজ শুরুর পর সেটি আর জটিল মনে হয়নি। নম্বর ও পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর ও গ্রেড নির্ণয় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জেএসসি ও এসএসসির সব বিষয়ে যাদের ভালো নম্বর রয়েছে, তাদের এইচএসসিতেও ভালো নম্বর বা জিপিএ থাকবে। তবে যারা অতিরিক্ত বিষয় ও ব্যবহারিকে নম্বর বেশি পেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এইচএসসিতে তাদের জিপিএ কমে যেতে পারে। ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক নম্বরকে জিপিএতে রূপান্তর করে নম্বর নির্ধারণ করা হবে। বাউবির শিক্ষার্থীদের এসএসসির ওপর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের দুই পরীক্ষায় অতিরিক্ত ও ব্যবহারিক বিষয় একইভাবে নম্বর মূল্যায়ন করে নম্বর যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কমিটির পাঠানো দিকনির্দেশনামূলক প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। সেটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ওপরে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হবে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাঠানো হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *