বাক্সপেটরা গোছাচ্ছেন মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটে কারচুপির অভিযোগ করে যাচ্ছেন। তাঁর অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্যে একাত্মতা জানিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। কিন্তু খুব সন্তর্পণে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, মেলানিয়া এখন বাড়ি যেতে উন্মুখ। তিনি বাক্সপেটরা গোছানো শুরু করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দাবি করা হয়, হোয়াইট হাউস–পরবর্তী জীবনে ফার্স্ট লেডির জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ রয়েছে কি না, তাঁর কোনো সহকারী থাকবেন কি না, গোপনে এসব জানার চেষ্টা করেছেন মেলানিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউস ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, মেলানিয়া তখন বাক্সপেটরা গোছানোয় ব্যস্ত। কোন জিনিসগুলো নিউইয়র্কে ট্রাম্পের পেন্টহাউসে যাবে, কোনটা ফ্লোরিডার পাম বিচে মার–এ–লাগো রিসোর্টে নেওয়া হবে, সেসব ঠিক করছেন ফার্স্ট লেডি।

ফার্স্ট লেডি গত এপ্রিলে মার্সিয়া লি কেলি নামের একজনকে হোয়াইট হাউসে তাঁর ইস্ট উইং কার্যালয়ে নিয়োগ দেন। মার্সিয়া লি কেলি এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কার্যালয়ে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বলেছে, মার্সিয়ার মাধ্যমে মেলানিয়া খোঁজ করেছেন, হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর তাঁর জন্য সরকারি অর্থ ও কর্মী বরাদ্দ হবে কি না। তবে মেলানিয়ার জন্য মন ভালো করা কোনো খবর ছিল না এ ক্ষেত্রে। বিদায়ী প্রেসিডেন্টের জন্য অর্থ, নিরাপত্তা ও কর্মী বরাদ্দ থাকলেও কোনো ফার্স্ট লেডির জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে নেই। কেবল স্বামী মারা গেলেই সাবেক ফার্স্ট লেডিরা বছরে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করে অবসর–ভাতা পান।

তবে এ খবরও মেলানিয়াকে বাক্সপেটরা গোছানো থেকে নিরস্ত করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, মেলানিয়ার আসবাব, শিল্পকর্ম ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। শুধু তা–ই নয়, হোয়াইট হাউস–পরবর্তী জীবনের দিকেই মেলানিয়া এখন বেশি মনোযোগী। তিনি একটি বই লেখার কথা ভাবছেন। তবে তা আত্মজীবনী নয়।

বেশির ভাগ সাবেক ফার্স্ট লেডিই এ কাজ করেছেন। যেমন মিশেল ওবামা ‘বিকামিয়’ নামে একটি আত্মজীবনী লিখেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের স্ত্রী লরা বুশও হোয়াইট হাউস–পরবর্তী জীবনে লিখেছেন ‘স্পোকেন ফ্রম দ্য হার্ট’। দুটো বই–ই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।

তবে মেলানিয়া আত্মজীবনী লিখতে চান না বলে জানা গেছে। তিনি ছবিতে ভরা এমন একটি বই রচনা করতে চান, যাতে তাঁর হোয়াইট হাউসে থাকার সময়টা উঠে আসবে। হোয়াইট হাউসকে তিনি যেভাবে নতুন করে সাজিয়েছেন, তার সাক্ষ্য হবে বইটি।
একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, মেলানিয়ার সব মনোযোগ এখন মার–এ–লাগো রিসোর্ট ঘিরে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এ রিসোর্টই মেলানিয়া ও তাঁর ১৪ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পের ঠিকানা হবে। ব্যারন ফ্লোরিডায় তার স্কুলের পাট শেষ করবে বলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে সে মেরিল্যান্ডের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছে। হোয়াইট হাউস থেকে এরই মধ্যে মার–এ–লাগো রিসোর্টে একটি–দুটি করে জিনিস সরানো শুরু করেছেন মেলানিয়া। নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে তাঁর পেন্টহাউস থেকেও ওই রিসোর্টে জিনিসপত্র নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ঘরের সজ্জার জন্য থাম কানালিখামকেও নিয়োগ দিয়েছেন মেলানিয়া। এ ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ২০১৭ সালে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার মনের মতো করে হোয়াইট হাউস সাজিয়েছিলেন। একটি সূত্র বলেছে, থাম কানালিখাম কয়েক সপ্তাহ ধরে মার–এ–লাগো রিসোর্টে কাজ করছেন। নতুন করে শিল্পকর্ম স্থাপন, জানালা–দরজাসহ বিভিন্ন জায়গার পর্দা বসানোসহ নানা কাজই করছেন তিনি। এ ছাড়া শৌচাগারেও কিছু কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে সেখানে।

‘মার–এ–লাগো: ইনসাইড দ্য গেটস অব পাওয়ার অ্যাট ডোনাল্ড ট্রাম্প’স প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস’ বইয়ের লেখক লরেন্স লিমার বলেন, মার–এ–লাগোর পরিবেশটা অনেকটা অবকাশযাপনের জায়গার মতো। এ রিসোর্টে মাঝেমধ্যে মেলানিয়ার মা–বাবাও এসে থাকেন। তাঁদের জন্য ঘর বরাদ্দও রয়েছে এখানে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মার–এ–লাগো এলাকায় সম্প্রতি সিক্রেট সার্ভিসের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য সেখানে নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও স্থাপনের কাজ চলছে।

About Mukshedul Hasan Obak

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *