মৌমাছির দখলে দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি

রাজবাড়ী সদর উপজেলায় একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়িতে প্রায় অর্ধশত মৌমাছির চাক রয়েছে। এ যেন মৌমাছির অভয়াশ্রম। মৌ মৌ গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে উড়ছে মৌমাছির দল। দোতলাবাড়ির পশ্চিম দিকের কার্নিশে পুরো বাড়ি যেন দখল নিয়েছে ওরা।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কানাডা বাজারসংলগ্ন মুন্সিবাড়ির দোতলাবাড়িতে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। তবে মৌচাক থেকে সংগ্রহকৃত মধু বিক্রির টাকা নিজে ভোগ না করে গরিব এতিমদের মধ্যে বণ্টন করা হয় বলে জানান ওই বাড়ির মালিক সেকান্দার মুন্সি।  
    
জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌমাছির গুঞ্জরনে মুখরিত থাকে এলাকা। সেখানে দোতলায় প্রায় অর্ধশত চাক গড়ে তুলেছে। মূল ফটকের ওপরের দোতলায় বাসা বেঁধেছে মৌমাছি।

গত চার বছর ধরে রহস্যজনকভাবে শীত মৌসুমে মৌমাছিরা ওই দোতলাবাড়িতে এসে মধু আহরণ করে মৌচাক তৈরি করে।  পুরো বছর ধরেই কমবেশি মৌমাছি থাকে ওই বাড়িতে।

উৎসুক জনতা প্রতিদিনই মৌমাছির চাক দেখতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সেখানে ভিড় করছেন।

বাড়ির মালিক সেকান্দার মুন্সি বলেন, ২০১৫ সালে আমার দোতলা ভবনটিতে মৌমাছিরা ২৩টি চাক তৈরি করে। ২০২০ সাল পর্যন্ত অর্ধশত মৌমাছির চাক তৈরি হয়েছে এখানে। মৌমাছির চাকগুলো আমাদের কোনো ক্ষতি করে না। চাকগুলো স্থানীয় মৌয়াল দিয়ে কাটার পর যে টাকা পাই, সেটি গত বছর এতিমদের জন্য একটি মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি।

যেহেতু এ বছর মৌমাছির চাক বেশি, তাই টাকাও অনেক বেশি পাব। চিন্তা করেছি আরও ৩-৪টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় এ টাকাগুলো দিয়ে দেব বলে জানান তিনি।   
   
পাশের কানাডা বাজারের মুদি দোকানদার মো. আইয়ুব আলী বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চাকগুলো দেখার জন্য উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করে। তারা মৌমাছির চাকগুলো দেখে আসল মধু বুঝতে পেরে আমাদের দোকান থেকে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, প্রতিদিনই অনেক মানুষ দূরদূরান্ত থেকে এখানে মৌমাছির চাকগুলো দেখতে আসেন। এ রকম অর্ধশত চাক দেখে তারা বেজায় খুশি বলে জানান।

ভ্যানচালক জালাল মণ্ডল বলেন, আমার প্রতিবেশী সেকান্দার ভাইয়ের বাড়িতে মৌমাছির চাকগুলো বসেছে। এলাকায় আমি ভ্যান চালিয়ে খাই। আমার এই ভ্যানেই রাজবাড়ী শহরের লোকজনকে মৌমাছির চাক দেখতে নিয়ে আসি। তারা দোতলাবাড়ির বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে চাকগুলো দেখে খুবই আনন্দ পায়।

শৌখিন মৌয়াল মো. শরীফ উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, ২০১৫ সাল থেকে এ বাড়ির দোতলায় মৌমাছির চাকগুলো আমিই কেটে মধু নামাই। প্রথম বছর ৩-৪ মণ মধু নামালেও এ বছর প্রচুর সরিষার আবাদ হওয়াতে ৭-৮ মণ মধু নামানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

About Sagor Ahamed Milon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *