বরিশাল বিভাগের আখ চাষ বেড়েছে, কমেছে জেলায়

বরিশাল বিভাগের আখ চাষ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। তবে ধারাবাহিকভাবে আখের চাষ কমছে বরিশাল জেলায়। আখ চাষ বাড়াতে বাংলাদেশ আখ গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল নতুন বিএসআরআই-৪১ ও বিএসআরআই-৪২ জাতের চারা ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ-বিন রফিক জানান, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় আখ চাষ হয়েছে ২ হাজার ১২৯ হেক্টর জমিতে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৭২ হেক্টর এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে চাষ হয়েছে ২ হাজার ২৬৬ হেক্টরে।চলতি মৌসুমে (২০২০-২০২১) বিভাগের ৬ জেলায় ২ হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শীতকালে আখ চাষের মৌসুম শুরু হওয়ায় বুধবার পর্যন্ত বিভাগের ৬ জেলায় ৬০৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগে বিভাগের ৬ জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে আশা কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্মকর্তা নাহিদ-বিন রফিকের। 

এদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সব চেয়ে বেশি আখ চাষ হয় ভোলায়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল জেলা। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে ভোলায় সর্বাধিক ৮২৪ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়। একই বছরে বরিশাল জেলায় ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়।

গড় হিসেবে বরিশাল বিভাগে আখের চাষ বাড়লেও বরিশাল জেলায় আখের চাষ ক্রমাগতভাবে কমছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বরিশাল জেলায় ৫৯৫ হেক্টর জমিতে, ২০১৯-২০২০ বছরে ৫৬১ হেক্টরে এবং চলতি মৌসুমে (২০২০-২০২১) ৪১৬ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১০০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে জেলার বানারীপাড়ায় এবং সর্বনিম্ন আগৈলঝাড়ায় আখের চাষ হয় ২ হেক্টর জমিতে।

আখের চাষ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম বলেন, আখ এক বছর মেয়াদি ফসল। এই সময়ে অন্য জাতের ৩টি ফসল উৎপাদন করা যায়। যদিও আখের চারা ছোট থাকা অবস্থায় স্বল্প আয়ুকালের শাক-সবজি চাষ করা যায়।

আখ মাড়াই যন্ত্রের অপ্রতুলতাসহ আখ উৎপাদন পরবর্তী জটিল ব্যবস্থাপনা এবং ১ বছর মেয়াদি ফসল হওয়ায় অধিক লাভের আশায় কৃষকরা আখ চাষ ছেড়ে লাভজনক অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছে। বরিশাল অঞ্চলে কোনো চিনি উৎপাদন মিল না থাকায় আখের ব্যাপক চাহিদা নেই। 

স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরি, আখের রস এবং চিবিয়ে খাওয়ার জন্য কিছু আখের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বরিশালে মিষ্টিদানা, মধুমালা, কাজলী, গেন্ডারী এবং বোম্বাই জাতের আখ চাষ হচ্ছে। কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ বছর জেলায় নতুন জাতের আখের ১০টি প্রদর্শনী খামার করা হয়েছে। প্রদর্শনী সফল হওয়ায় কৃষককে লাভবান করতে নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল বিএসআরআই-৪১ এবং বিএসআরআই-৪২ জাতের চারা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানান উপ-পরিচালক।

About Sagor Ahamed Milon

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *